দেশ প্রথম পাতা

২ বছর পর অবশেষে মুক্তি, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে যুবকের বিয়েকে মান্যতা দিল না আদালত

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০১৭ সাল।মে মাসে ভাইরাল হয়েছিল বিনোদের বিয়ের সেই ভিডিয়ো। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বোকারো স্টিল প্ল্যান্টের বছর তিরিশের ওই ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, দু’বছর আগে বন্ধুর বিয়েতে যাচ্ছিলেন তিনি। রাতের অন্ধকারে রাস্তায় তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে একটি গাড়ি। চালক বলে সে বিনোদকে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। কিন্তু গাড়ি স্টার্ট করেই চালক বলে, প্রথমে সে নিজের বাড়ি যাবে। কারণ ভুল করে একটা জিনিস ফেলে এসেছে। সহজ সরল বিনোদ কিছু না বুঝেই ফাঁদে পা দেয়। গিলে নেয় টোপ। তারপরেই শুরু হয় নাটক।

বিহারের এক গ্রামে সে বছর ডিসেম্বর মাসে বিনোদ কুমার নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়েছিল কনেপক্ষ। তারপর জোর করে বাড়ির মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয় কনের পরিবার। বিয়ের পর আদালতে মামলা করেছিলেন ওই যুবক। দু’বছর পর অবশেষে রায় দিয়েছে আদালত। বিনোদের ‘জোর করে হওয়া’ বিয়েকে নাকচ করেছে কোর্ট। কনের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে জোর করে বিয়ে করছে পাড়ার মস্তান, কিংবা মেয়ের বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে জোর করে প্রেমিকাকে বিয়ে করছে জেদি প্রেমিক, সিলভার স্ক্রিনে এ দৃশ্য পরিচিত। কিন্তু বরকেও যে টেনে হিঁচড়ে মণ্ডপে এনে বিয়ে দেওয়া হয়, এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু এমনটাই রীতি রয়েছে এই ভারতেই, বিহারে। যেখানে রাস্তা থেকে টোপ ফেলে বিবাহযোগ্য পুরুষদের তুলে নিয়ে যায় মেয়ের বাড়ির লোক। তারপর বন্দুকের নল মাথায় ঠেকিয়ে বিয়ে দেওয়া হয় ছেলেটির। হাজার কান্নাকাটি, কাকুতি-মিনতিতেও মেলে না রেহাই। বরং মেয়ের বাড়ির নির্দেশ না মানলে কপালে জোটে বেধড়ক মার।সেরকমই হয়েছিল বিনোদের সাথেও। সে বলে, রাতের অন্ধকারে যখন তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানে গিয়ে দেখে যে তাঁকে জোর করে বিয়ে করার চাপ দিচ্ছে কনের বাড়ির লোকজনেরা। এরপরেই আদালতে দু’টি মামলা করেন বিনোদ। একটি তাঁর বিয়েকে নাকচ করার জন্য। অন্য মামলাটিতে অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ আনা হয় মেয়ের বাড়ির বিরুদ্ধে।সেই রায়েই বলা হয়েছে দু’বছর আগে জোর করে হওয়া বিনোদের ওই বিয়ের কোনও বৈধতা নেই।

 

Spread the love