আজকের সারাদিন জেলা দক্ষিণবঙ্গ প্রথম পাতা

প্রথা মেনেই নববর্ষের ঘট স্থাপন হল মহিষাদল রাজবাড়িতে ।

হলদিয়াঃ আজ বাংলা নববর্ষ। বাঙালির কাছে এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ পার্বণও বলা যেতে পারে। কিন্তু এই পার্বণে ভাটা ফেলেছে নোভেল করোনাভাইরাস। গোটা দেশজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের জন্য লকডাউন জারি করা হয়েছে। সমস্ত জমায়েত একেবারে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার জন্য ঐতিহ্যবাহী মহিষাদল রাজবাড়ির কুলদেবতা গোপাল জিউর মন্দিরে সমস্ত পুজো দেওয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে রাজবাড়ী কর্তৃপক্ষ। এমনিতেই প্রত্যেক বছর নববর্ষে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগত পুজো দেওয়ার ভিড় জমতো মহিষাদল রাজবাড়ির এই গোপাল জিউর মন্দির। কিন্তু এবছরের ছবিটা যেন কিছুটা আলাদা। গোপাল জীউর ভক্তদের জন্য সকাল থেকেই বন্ধ প্রবেশদ্বার। বন্ধ রয়েছে সমস্ত নতুন খাতা পুজোও। ফলে নববর্ষের দিনে আমার সকাল থেকে যেন অন্য চিত্র পূর্ব মেদিনিপুরের মহিষাদল রাজবাড়ি এই গোপাল জিউয়ের মন্দিরে। তবে প্রাচীন প্রথা মেনে এদিন মহিষাদল রাজবাড়ির নব ঘট স্থাপন করা হয়। আয়োজন করা হয় বিশেষ ভোগের। রাজবাড়ীর কুল দেবতার সকাল থেকেই চলে বিশেষ পুজোপাঠ। ভোরবেলা উঠে থেকে রাত্রে সন্ধ্যা আরতি সমস্ত কিছুর আয়োজন রয়েছে। কিন্তু এর মাঝে এবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নতুন খাতা পুজো। তবে প্রাচীন প্রথা মেনে নববর্ষের দিন রাজবাড়ীর ঘট স্থাপন করা হয় এদিন। প্রথমে গোপাল জীউয়ের মন্দিরে ঘট পূজা হয় এবং তা পরে রাজবাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্থাপন করা হয়। সবমিলিয়ে বলা চলে লকডাউনে বাধা পড়লো না প্রাচীন ঐতিহ্যে। কুলদেবতার জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ ভোগের.। প্রতিবছর এই দিনে রাজবাড়ীর কুলো দেবতা গোপাল জিউয়ের কাছে পুজো দিয়ে বাংলার নতুন বছরে নতুন করে পথাচলা শুরু করেন ব্যবসায়ী থেকে সাধারন মানুষ। তবে এবার পুজো দিতে না পারলেও বাড়িতে থেকে মঙ্গল কামনা করে নতুন খাতায় পুজো করেছেন অনেকেই। ব্যবসায়ী স্বরুপ দাস অধিকারী জানান, প্রতিবছর মায়ের কাছে পুজো দিয়ে নতুন ভাবে ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু এবছর করোনার কারনে মন্দিরে গিয়ে পুজো দিতে না পারলেও বাড়িতে মায়ের পায়ে ফুল, মিষ্টি দিয়ে আশির্বাদ চেয়েছি। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে সকলে স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ফিরে আসুক এই প্রার্থনাও জানাই।।

Spread the love