কলকাতা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

ঘরের দুযারে পরিষেবা পেঁছে দিযে মুশকিল আসানের কাজ করবে অভিষেকের নেতৃত্বাধীন বাংলার যুবশক্তি।

দেবাশিস দাস – একুশে জুলাইযে আগে ১.২৫ লক্ষ স্বচছ ভাবমূর্তি সদস্যের খোঁজে তৃণমূল। একুশে জুলাইয়ে র সভা কিভাবে হবে তা নিয়ে রীতিমত আগ্রহ রয়েছে মানুষের মধ্যে। ঠিক এমনই এক সমযে দাঁড়িয়ে ‘বাংলার যুবশক্তি’ নামে একটি নতুন প্রকল্পের সূচনা হল সর্বভারতীয় ও রাজ্য যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাযের হাত ধরে। মঙ্গলবার এই প্রকল্পের সূচনালগ্নে ডপস্থিত ছিলেন শাসকদলের সর্বভারতীয সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ সুব্রত বক্সি, তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যাযে মতো শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ঘরের দুযারে পরিষেবা পেঁছে দিতে ‘বাংলার যুবশক্তি’ আগামী  জুন থেকে কাজ শুরু করছে এ রাজ্যে। শাসকদলের পৃষ্ঠপোষকতায মূলত সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাযের উদ্যোগে ‘বাংলার যুবশক্তি’ তৈরী হয়েছে। আগামী ১১ ই জুলাইযে মধ্যে রাজ্য স্তর থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত এর সদস্য সংখ্যা ১.২৫ লক্ষ হবে। এই ১.২৫ লক্ষ সদস্য প্রত্যেক ১০ টি পরিবারের সঙ্গে নিযমিত যোগাযোগ রাখবে। এবং যে কোনও সমস্যার সমাধানে মুশকিল আসানের ভূমিকা নেবে। ১১ ই জুলাইযে পর এই লক্ষাধিক সদস্যদের নিযে ভার্চুযাল সভারও আযোজন করা হবে বলে জানা যাচেছ। সময যত সামনের দিকে গড়াবে, ততই এই সদস্যদের ভূমিকা কি হবে তা আরও স্পষ্ট করে জানিযে দেওযা হবে। মঙ্গলবার জুম অ্যাপের মাধ্যমে রাজ্যের যুবনেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে এবিষযে বিশদে ব্যাখ্যা করেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায। বিকেল তিন টে ১৫ মিনিট থেকে সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে ভিডিও কনফারেন্স করা হয। অভিষেকের পাশাপাশি এদিন বক্তব্য রাখেন সুব্রত বক্সি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায।
আগামী এক মাস ‘বাংলার যুবশক্তি’ নামে একটি প্রকল্পের ওপর কাজ করবেন যুবকর্মীরা। প্রকল্পটি তৃণমূল কংগ্রেসের হলেও এটা অরাজনৈতিকভাবে করার কথা বলা হচেছ। আগামী এক মাসের মধ্যে ১.২৫ লক্ষ যুবকর্মী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে জনপরিষেবা পৌঁছে দেবে। খাদ্য-শিক্ষা সহ যেকোনও ধরনের অসুবিধায পড়লে আমজনতাকে সাহায্য করবে অভিষেকের এই যুব বাহিনী।
১১ জুন থেকে ১১ জুলাই বাংলার যুবশক্তি কর্মসূচি শুরু হবে। এদিন লোগোও প্রকাশ করা হয়েছে। জোন ধরে ধরে দু’জন দাযিত্বে থাকছেন। পুরো রাজ্যকে পাঁচটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। দশজন রাজ্য কোঅর্ডিনেশনের দাযিত্বে। প্রায ৯০ থেকে ৯৫ জন স্টেট কোঅর্ডিনেটর। ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটির মেম্বার ১০ থেকে ১৫ জন হয়েছেন। ২৯৫ জন ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেশন মেম্বার।৩২৯ জন এদিনের বৈঠকে ডপস্থিত ছিলেন।

এক-একজন ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটির মেম্বারকে দুটি কিংবা তিনটি ব্লক বা শহরের দাযিত্ব দেওযা হবে মনিটর করার জন্য। এরা প্রতি ব্লক এবং শহর থেকে পাঁচজন করে অরাজনৈতিক স্বচছভাবমূর্তি যুবক (১৮ থেকে ৩৫ বছরের) নিযে নাম পাঠাতে হবে ১১ জুনের মধ্যে। ব্লক লেভেলে যে সমস্তˆ যুবক-যুবতী কাজ করবেন তাদেরকে বলা হচেছ ফিল্ড ইডনিট মেম্বার। পাঁচজন করে প্রতি ব্লক বা শহর থেকে নেওযা হবে বিভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চাযেত বা ওযার্ড থেকে নিতে হবে। যার পোশাকি ভাষায বলা হচেছ ইকুযাল পার্টিসিপেশন জিওগ্রাফি। ৩৪১ ব্লক ,১২০ টি শহর ১৭ কর্পোরেশন ২৫০০ ফিল্ড ইডনিট মেম্বার। প্রত্যেকে ৫০ জন করে নাম দিতে হবে। যারা তৃণমূলের সাথে এখনও যুক্ত নয সত্ নিষ্ঠাবান পরিচছন্ন ভাবমূর্তি দেখে তাদের চিহ্নিত করা হবে। এদের ওপর নজর রাখবে প্রশান্ত  কিশরের টিম। যারা যোগদান করবেন তারা ওযেবসাইটে যোগদান করবেন। যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে একটি করে রেফারেল লিঙ্ক দেওযা হবে। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এদের কাজকর্ম প্রাশান্ত কিশোরের টিমেরও নজরে থাকবে। যখন পুরো টিম গঠন হযে যাবে  ১.২৫  লক্ষতে পৌঁছবে, ১১ জুলাইযে পর এদেরকে নিযে একটি ভার্চুযাল সভা হবে। প্রতিটি শহর ও ব্লকে যে ৫০ জন করে যোগদান করবেন তাদেরকে বলা হবে ‘যুবযোদ্ধা’। এক-একজন যুবযোদ্ধা ১০ টি করে পরিবারের দাযিত্ব নেবে।
www.banglaryubashakti.in এ যতজন যোগদান করবেন এই ওযেসাইটে তা রিফ্লেক্ট করবে। যোগদানকারীর প্রত্যেককে রেফারেল লিঙ্ক দেওযা হবে। এতে কোনও তৃণমূলের লোগো বা সিম্বল নেই। এই যুবশক্তি করোনার বিরুদ্ধে লড়বে। বিন্দুতে বিন্দুতে সিন্ধু হবে, এমনটাই জানানো হয়েছে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাযে তরফে। আপনি কিভাবে কাজ করছেন তা মনিটর করা হবে। পার্টিকে মিসগাইড করার কোনও জাযগা নেই, এমনটাও বলা হয এদিনের বৈঠক থেকে। ১৮ বছর থেকে ৩৫ বছর বয়েসিদের যুক্ত করা হচেছ। ১১ জুন থেকে ১১ জুলাইযে মধ্যে এই যুক্ত করার কাজ কমপ্লিট হবে। জোনাল কমিটিতে ৩ জন রয়েছেন। যারা ডিস্ট্রিক্ট কমিটিকে মনিটর করবে। ১১ জুলাই থেকে ১.২৫ লক্ষ যুবক-যুবতীকে কনফারেন্সের মাধ্যমে আগামীর পরিকল্পনা জানানো হবে। হবে ভার্চুযাল সভাও।
এই যে ৫০ জন যোগদান করবেন এদের বলা হবে ‘যুবযোদ্ধা’। এরা সবাই যোগদান করার পর হোযাটসঅ্যাপ গ্রুˆপ করে দেওযা হবে। এক-একজন যুবযোদ্ধা ১০ টি পরিবারের দাযিত্ব নেবে। এই পরিবারগুলির সমস্তˆ সমস্যার সমাধান করার দাযিত্ব নেবে এই যুবযোদ্ধারা। এরাই বোঝাবে কঠিন পরিস্থিতিতে রাস্তায় না নামার কথা। সমস্তˆ কাজ এই যুবযোদ্ধারাই করে দেবে। আগামী দিনে বাংলা কিভাবে বিজযী হবে তার রূপরেখা এরমধ্যেই থাকছে।
বাংলার যুবশক্তির রূপরেখা
আমরা বর্তমানে টিএমওযাইসি দলের পরিকাঠামোর দুটি স্তˆরের জন্য কমিটি গঠন করেছি। ১০ জন সদস্যের রাজ্য কমিটি। এবং ২৯৫ সদস্যের ২৩ টি জেলা কমিটি। আমাদের পরবর্তী পদেক্ষপ হল জেলাভিত্তিক ২৩ টি ফিল্ড কমিটি গঠন করা। যাতে মোট ২৫০০ জন সদস্য থাকবে। এটা করবার জন্য আমাদের প্রথমে ফিল্ড কমিটির সদস্যদের বেছে নেওযার মানদণ্ডটি বুঝতে হবে।
একত্রিত করা
আপনাদের নেটওযার্কে উজ্জিবিত যুবকদের একত্রিত করুন, যারা তাদের আশেপাশের মানুষ এবং সমাজের সাহায্য করতে ইচছুক।
নিযুক্ত করা
বাংলার যুবশক্তি ওযেবসাইটে তাদের যুব যোদ্ধা হিসেবে স্বেচছাসেবার জন্য রেজিস্ট্রার করতে তাদের সহযোগিতা করা।
যুক্ত রাখা হল
এই ডদ্যোগের জন্য তৈরি স্থানীয বিধানসভা কেন্দ্র স্তরের হোযাটসঅ্যাপ গ্রুˆপগুলিতে যুবযোদ্ধাদের যুক্ত রাখা।
মেগা ভার্চুযাল সেশন
৩০ দিন পর যুবযোদ্ধাদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের ভবিষ্যতের কার্যক্রম সম্পর্কে জানানোর জন্য একটি মেগা ভার্চুযাল সেশনের আযোজন করা হবে।
প্রতিটি ফিল্ড কমিটির সদস্যদের জন্য ইডনিক রেফারেল লিঙ্ক তৈরি ও গ্রহণের প্রক্রিযা।
১। ৮ ই জুন থেকে ১২ ই জুনের মধ্যে জেলা কমিটি তাদের নির্দিষ্ট ফিল্ড কমিটি গঠন করবে।

২।১২ ই জুনের মধ্যে জেলা কমিটিকে তাদের ফিল্ড কমিটির সদস্যদের বিশদ বিবরণ রাজ্য কমিটির সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে।
৩। ১৩ ই জুনের মধ্যে রাজ্য কমিটিকে ফিল্ড কমিটি সদস্যদের বিশদ বিবরণের চূড়ান্ত তালিকা আইপ্যাক পিওসি’র সাথে ভাগ করতে হবে।
৪।  ১৫ ই জুনের মধ্যে আইপ্যাক’কে প্রতিটি ফিল্ড কমিটির সদস্যের জন্য ইডনিক রেফারেল লিঙ্ক তৈরি করতে হবে।
৫। সেন্ট্রালাইজড এসএমএসের মাধ্যমে ফিল্ড কমিটির সদস্যদের ইডনিক রেফারেল কোড পাঠানো হবে (কোনও সমস্যা হলে জেলা কমিটি রাজ্য কমিটিকে জানাবে)।
৬। ফিল্ড কমিটির সদস্যদের অন্তত ৫০ জন উজ্জিবিত তরুণকে তাদের নির্দিষ্ট ইডনিক লিঙ্ক়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার্ড করে নিযুক্ত করতে হবে।
টিএমওযাইসি’র দলের ত্রিস্তˆরীয পরিকাঠামো

রাজ্য স্তরের কমিটি (১০ জন সদস্য)

রাজ্য কমিটির দুজনের দলে বিভক্ত হয়ে তাদের নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য

প্রথম অঞ্চল (৮টি জেলা)-৮টি জেলা কমিটি -৪৭৩ জন ফিল্ড কমিটির সদস্য।

দ্বিতীয় অঞ্ছল তিনটি জেলা -তিনটি জেলা কমিটি-৪৩৫ জন ফিল্ড কমিটির সদস্য ।

তৃতীয় অঞ্চল (৬ টি জেলা)-৬ টি জেলা কমিটি-৬৭০ জন ফিল্ড কমিটির সদস্য।

চতুর্থ অঞ্ছল ( তিনটি জেলা )-তিনটি জেলা কমিটি -৪৯৯ জন ফিল্ড কমিটির সদস্য ।

পঞ্চম অঞ্চল ( ৩ টি জেলা )- তিনটি জেলা কমিটি -৪১৫ জন ফিল্ড কমিটির সদস্য ।

( প্রতিটি জেলা কমিটি তাদের নিজ নিজ ফিল্ড কমিটি পরিচালনা করবে যেটি ব্লক, শহর ,ও পুর কর্পোরেশনের কমিটির সমন্বয়ে গঠিত হবে ।)

এই সংকটকালে যুবদের একত্রিত করে বাংলার মানুষের সাহায্যের জন্য কাজ করার সময় এসে গিয়েছে ।সেই কাজে নতুন দিশা দেখাবে অভিষেকের নেতৃত্বাধীন বাংলার যুবশক্তি ।

 

Abhishek bannerjee will provide service at the door of the  every peoples home.

Spread the love