গ্যাল্যারি প্রথম পাতা

পেট কেটে বেরিয়ে আসা অন্ত্রকে নিয়ে দশ কিলোমিটার পাড়ি যুবকের

নিজস্ব প্রতিনিধি— সঙ্ঘামিত্রা এক্সপ্রেসে করে ভাইয়ের সঙ্গে ট্রেনে করে নেল্লোর যাচ্ছিলেন বিহারের বাসিন্দা ৩৮ বছরের সুনীল চৌহান। কিন্তু রাত্তিরে উঠে বাথরুম গিয়েই কাল হলো। ঘুম চোখে দরজার কাছে থাকাকালীন হঠাৎ ট্রেন গতি নেওয়ায় ট্রেন থেকে পড়ে যান তিনি। মারাত্মক আঘাত পাওয়ার পাশাপাশি পেট কেটে বেরিয়ে পড়ে অন্ত্র। সেই অবস্থায় ১০ কিলোমিটার হাঁটলেন তিনি। অবশেষে এক স্টেশন মাস্টার দেখতে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁকে।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতের। পুলিশ সূত্রে খবর, ভাইয়ের সঙ্গে সঙ্ঘমিত্রা এক্সপ্রেসে চড়ে নেল্লোর যাচ্ছিলেন বিহারের বাসিন্দা ৩৮ বছরের সুনীল। রাত ২টো নাগাদ তিনি বাথরুমে যান। ফেরার পথে দরজার কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ান। কিন্তু হঠাৎ করে ট্রেন গতি নেওয়ায় হাত ফস্কে ট্রেন থেকে পড়ে যান তিনি। একটা লোহার রডে লেগে পেট কেটে যায় তাঁর। বেরিয়ে পড়ে অন্ত্র। এ ছাড়াও হাত ও মেরুদন্ডেও চোট পান সুনীল। সেই অবস্থাতেই জামা খুলে পেটে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন সুনীল। তারপর লাইন ধরে হাঁটা শুরু করেন। জানা গিয়েছে, ওই অবস্থায় প্রায় ১০ কিলোমিটার হাঁটেন তিনি। তারপর হাসানপার্থি স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সঞ্জয় কুমার পটেল তাঁকে দেখতে পান। তিনি জানিয়েছেন, শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। কিন্তু তারপরেও জ্ঞান ছিল সুনীলের। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে ওয়ারঙ্গলের এমজিএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সুনীলকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁকে যখন আনা হয়, তখন তাঁর অবস্থা গুরুতর ছিল। শরীরের একাধিক জায়গায় জখম ছিল তাঁর। অন্ত্র বেরিয়ে আসা তো বটেই মেরুদন্ড ও হাতেও বিরাট চোট পেয়েছিলেন তিনি। ভাগ্য ভালো, মাথাতে চোট লাগেনি। তাই জ্ঞান হারাননি সুনীল।ডাক্তাররা তাঁর অন্ত্র ভেতরে ঢুকিয়ে সেলাই করেন। তারপর বাকি জায়গার চিকিৎসা করা হয়। ওই অবস্থাতেও ভাই প্রবীণের ফোন নম্বর মনে ছিল সুনীলের। প্রবীণকে ফোন করা হলে তিনি ট্রেন থেকে নেমে ওয়ারঙ্গলে আসেন। সেখানে এসে পৌঁছয় সুনীলের বড়ির লোকও। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটা দুর্ঘটনা। কারণ, তাঁর দেহে মদ পাওয়া যায়নি। তাও পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। বর্তমানে হাসপাতালেই ভর্তি সুনীল।

Spread the love