aamar sakal: Be careful not to name! Target leader murdered in Panskura
জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

আমার সকাল: নাম না করেও হুঁশিয়ারী! পাঁশকুড়ায় তৃণমূল নেতা খুনে জেলখাটা আনিসুরের দিকেই নিশানা শুভেন্দুর

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবমীর রাতে পার্টি অফিসের ভিতর খুন হয়েছেন পাঁশকুড়ার তৃণমূল নেতা কুরবান শাহ(৩২)। মাইসোরা পার্টি অফিসে ঢুকে তাঁকে গুলি করে মারে দুষ্কৃতীরা।  রাত্রি সাড়ে দশটা নাগাদ পার্টি অফিসে বসেছিলেন পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি কুরবান। মহানবমীর রাতে বন্ধু -কর্মীদের সঙ্গে চলছিল গল্পগুজব। রাত গড়াতে আস্তে আস্তে ঘরে ফিরছিলেন এক একজন করে। জনা পাঁচেক কর্মীর সঙ্গে পার্টি অফিসেই ছিলেন কুরবান।

 

তাঁর অনুগামীরা জানান, হঠাৎই জনা সাতেক দুষ্কৃতী অফিসের সামনে বাইক দাঁড় করিয়ে সটান ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দুষ্কৃতীরা কুরবানকে লক্ষ্য করে প্রায় পাঁচ রাউণ্ড গুলি চালায়। পার্টি অফিসেই লুটিয়ে পড়েন কুরবান। পার্টি অফিসে থাকা অন্য কর্মীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা বাইকে করে চম্পট দেয়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় কুরবানের।

খবর পেয়েই পরের দিন সকালে ঘটনাস্থলে পৌছে গিয়েছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানে গিয়েই মন্ত্রী দাবি করেছেন, এই খুনের পিছনে হাত রয়েছে স্থানীয় এক জেল ফেরত বিজেপি নেতার। তবে  বিজেপির আনিসুর রহমানই যে শুভেন্দুর নিশানায় রয়েছে তা কারুর বুঝতে কোন অসুবিধা হয় নি। আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে কুরবান শাহকে এই কথাই নাম না পরিষ্কার জানিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী।

খুনের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। ঘটনার দিন রাতেই নিহতদের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জন আনিসুর অনুগামীকে আটক করেছে পুলিশ।ঘটনার দিনেই পাঁশকুড়ার মাইসোরায় নিহত তৃণমূল নেতার বাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী। দেখা করেন নিহত তৃণমূল নেতার স্ত্রী সহ বাকি পরিবারের সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

নিহতের বাড়িতে বসেই শুভেন্দু অধিকারী তোপ দাগেন, এলাকায় পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত এই বিজেপি নেতাকে বেশ কয়েকবার দেখা গিয়েছে। খুনের তদারকি করে তিনি চলে যান। তিনি-ই পরিকল্পনা করে তাঁদের পঞ্চায়েত সমিতির নেতাকে খুন করিয়েছেন।দলীয় সূত্রে খবর, কুরবানের সব সময়ের একজন দেহরক্ষী থাকলেও ঘটনার দিন পুজোর ছুটিতে তিনি ডিউটিতে যোগ দেন নি।

দেহরক্ষীর ছুটিতে থাকার সুযোগই কি দুষ্কৃতীরা নিল, কুববান খুনে সেই প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরেই। তবে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘গুলির আওয়াজ পেয়েই আমরা প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করি। কিন্তু দুষ্কৃতীরা গুলি চালানোয় পিছু হটতে হয়।’’ শেষমেষ দুষ্কৃতিদের এলোপাথাড়ি গুলিতেই ঝঁঝরা হয়ে যায় তৃণমূল নেতা কুরবান।