দেশ প্রথম পাতা

মোষের শিং-এ তেল মালিশ করতে খরচ ১৬ লাখ টাকা!লালুর জামানাতেই বিহার যেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর

নিজস্ব সংবাদদাতা: নয়ের দশকে বিহারে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি বা চারা ঘোটালা কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। বিপুল টাকার ওই কেলঙ্কারিতে জড়িয়ে বর্তমানে জেল খাটছেন তত্কালীন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন দশক পরেও বেরিয়ে আসছে ওই কেলেঙ্কারি সম্পর্কে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি সম্পর্কে নতুন ওইসব তথ্য দিয়েছেন বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদী।লালুপ্রসাদ যাদবের জমানায় মোষের শিং পালিশ করতে খরচ হয়েছিল ১৬ লক্ষ টাকা। বিহারের পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির তদন্তে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১৯৯০ সালে লালুপ্রসাদ যাদব বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন পশুখাদ্যের জন্য বরাদ্দ ৬৫৮ কোটি টাকার কোনও হিসেব পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই এই দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন লালুপ্রসাদ। সম্প্রতি বিহার বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ বিল ২০১৯, নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই বিলে ১৯৭৭-৭৮ সাল থেকে ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হওয়া অতিরিক্ত খরচের বিস্তারিত বিবরণ আছে। এসম্পর্কে বলতে গিয়ে মোষের শিংয়ে তেল মাখানোর জন্য ১৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি। সরকারি এক আধিকারিকের দেওয়া হিসাবের কথাও উল্লেখ করেন। ওই হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯০-১৯৯৬ পর্যন্ত মোষের সিং পালিশ করার জন্য কেনা হয়েছিল ৪৯,৯৫০ লিটার সর্ষের তেল। খরচ হয়েছে ১৬ লক্ষ টাকা।চাইবাসা, দুমকা, জামশেদপুর, গুমলা ও পাটনা জেলায় ৯৫৯টি ভেড়া, ৫৬৬৪টি শুকর, ৪০,৫০৪টি মুরগী ও ১৫৭৭টি ছাগলের জন্য কেনা হয়েছিল ২৫৩.৩৩ টাকার খাবার। তবে সরকারি হিসেব মতো খাবার কেনার কথা ১০.৫৩ কোটি টাকার।বিহার সরকারের হিসেব মতো পশুখাদ্যে ১০ শতাংশ হলুদ ভুট্টা মেশানোর কথা। সেই জায়গায় মেশানো হয় ১১৫ গুণ বেশি ভুট্টা। তার জন্য খরচ করা হয় ১৫৪.৭২ কোটি টাকা।