দেশ প্রথম পাতা

দলের অন্দরে আরো কড়া নমো! অনুপস্থিত সাংসদদের তালিকা চেয়ে পাঠালেন মোদী

নিজস্ব সংবাদদাতা: দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর থেকেই দলকে ঠিক রাখতে কড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথাতেই পরিষ্কার যে তিনি দুর্নীতির সাথে কোনভাবেই আপোশ করবেন না। এমনকি দলের প্রত্যেকে যাতে নিদিষ্ট গাইডলাইন মেনে কাজ করেন সেই বিষয়ে নজর দিতে বলেন মোদী। এমনকি কয়েকদিন আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় ছেলে আকাশ যেভাবে ব্যাট দিয়ে পুর আধিকারিকদের মেরেছিলেন তাতে দেখে আকাশকে রীতিমত দল থেকে সাসপেন্ডের চিন্তাভাবনাও শুরু করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপির সংসদীয় কমিটিতেও নরেন্দ্র মোদী সাফ জানিয়েছিলেন, অভ্যব আচরণ দেখালে তত্ক্ষণাত্ দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত। কার ছেলে দেখলে চলবে না। আজ দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সংসদে সাংসদদের অনুপস্থিতির তালিকা চেয়ে বসেন নরেন্দ্র মোদী।কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে এ বার থেকে গরহাজিরদের তালিকা তৈরি করে প্রতি সন্ধেয় তাঁকে সেই তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নমো।

বিজেপির সাপ্তাহিক সংসদীয় দলের বৈঠকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রোস্টারে সংসদের ডিউটি থাকা সত্ত্বেও যাঁরা গরহাজির থাকবেন তাঁদের একটি তালিকা তৈরি করতে। বৈঠকে উপস্থিত দলীয় সাংসদদের রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন নমো। তিনি বলেছেন, ‘নিজেদের কেন্দ্রে সাংসদদে কিছু অনন্য কাজ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং সমাজসেবায় অংশ নিতে হবে।’ শুধু এখানেই থামেননি প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, গম্ভীর মুখ করে বলেন, ‘কাকে কী ভাবে ঠিক করতে হয় আমি জানি! সংসদ চলবে আর বিরোধী দলের নেতারা আমাকে চিঠি লিখে জানাবেন যে এই মন্ত্রী সংসদে থাকেন না, ওই মন্ত্রীকে আলোচনার সময় পাওয়া যায় না—এটা চলবে না।”সংসদের অধিবেশন চলাকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সকাল বিকেল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বসতে হয়। সপ্তাহের কোন দিন কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে রাজ্যসভা বা লোকসভায় বসতে হবে তা সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক জানিয়ে দেয়। এটাকেই রোস্টার ডিউটি বলে। কিন্তু এখন প্রায়ই দেখা যায় ট্রেজারি বেঞ্চে এক জন মন্ত্রী বসে রয়েছেন। আর যাঁদের রোস্টার ডিউটি রয়েছে তাঁরা সভায় নেই। হয়তো সংসদ ভবনেই রয়েছেন। কিন্তু সেন্ট্রাল হলে বসে সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত। অতীতে ইউপিএ জমানাতেও এমন প্রায়শই হতো।তবে এবার মোদীর টাইট শাসনে যে নড়েচড়ে বসবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।