কলকাতা দেশ

আত্মঘাতী হয়েছেন ঈশ্বর, শুনেও এলোনা কেউ

নিজস্ব প্রতিনিধি— হ্যাঁ, কখনও কখনও ঈশ্বরও আত্মঘাতী হন। শুনতে অবাক মনে হলেও এটাই বাস্তব। তবে, এই ঈশ্বর সেই ঈশ্বর নন। আমরা ঈশ্বর বলতে যে দেবতাকে বুঝি, তিনি দেবতা না হলেও নিজের সংসারে তিনি রীতিমত পুজো পেতেন নিজের পরিবারের কাছে। কারণ, তাঁর কায়িক পরিশ্রমেই চলত সংসার। সেই সংসারে এখন ঈশ্বর নেই। কারণ, ঈশ্বরেরও দুঃখ-কষ্ট রয়েছে। সেই দুঃখ-কষ্ট বোঝার ক্ষমতা একমাত্র ঈশ্বরেরই রয়েছে। সেকারণে পার্থিব জগতের ঈশ্বর সবকিছু পিছনে ফেলে রেখে চলে গেলেন অন্য ঈশ্বরের কাছে। আসলে এই ঈশ্বরের কাহিনি একটু অন্যরকম।

উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের ধাধেকি গ্রামে গত সোমবার ভোরে ঈশ্বরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরে কেটে গিয়েছে তিনদিন। অথচ এই ক’দিনে তাঁদের সঙ্গে দেখাও করতে আসেননি স্থানীয় বিধায়ক কিংবা শাসক বিজেপির কোনও নেতা। এমনটাই জানালেন ঈশ্বরের ছেলে অক্ষয়। তাঁর কথায়, ‘বাবার পকেট থেকে সুইসাইড নোট পেয়েছে পুলিশ। লেখা ছিল, পাঁচ বছরে বিজেপির সরকার চাষিদের শেষ করে দিয়েছে। চাষিরা যাতে বিজেপিকে ভোট না-দেন, সে কথাও লিখেছিলেন বাবা।’ চাষের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে লাখ চারেক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ঈশ্বর। অক্ষয়ের অভিযোগ, সেই ঋণ শোধের নাম করে তাঁর বাবাকে দিয়ে ফাঁকা চেকে সই করিয়ে নিয়েছিল অজিত সিংহ নামে এক এজেন্ট। সেই চেক বাউন্স করে, মামলা হয় ঈশ্বরের বিরুদ্ধে। এর উপরে কয়েক দিন আগে ঈশ্বরকে হুমকিও দিয়েছিল অজিত। এত চাপ সহ্য করতে না-পেরেই আত্মহত্যা।

ঋণগ্রস্ত চাষির আত্মহত্যায় অবশ্য ভোটে কোনও প্রভাব পড়েনি। বৃহস্পতিবার ছিল এখানকার ভোট। তবে ঈশ্বরের পরিবারের কেউই যাননি ভোট দিতে। মৃত চাষির ছোট ছেলে অরুণ জানান, তাঁদের পরিবারের এই বিপর্যয়ের পরে সব কিছুই অর্থহীন মনে হচ্ছে। তাই ভোট দিতে যাননি কেউ। তিনি আরও বলেন, ‘কাল থানায় যাব। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, সেটা জানতে।”

মৃত্যুর আগে পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে চা খেয়েছিলেন ঈশ্বর। রাতের খাবারও একসঙ্গেই। ভোর তিনটেয় উঠে রোজকার মতো পুজোও করেছিলেন বছর ষাটেকের এই মানুষটি। তার পরে আর কেউ দেখেনি তাঁকে। ভোর ছ’টায় বাড়ির একটি ঘর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হয়। জমিতে দেওয়ার কীটনাশক গলায় ঢেলেছিলেন ঋণে জর্জরিত হরিদ্বারের কৃষক ঈশ্বরচন্দ শর্মা। হাসপাতালে যেতে যেতে ভোর সাড়ে ছ’টার মধ্যেই সব শেষ।

ময়না-তদন্ত, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ, অভিযুক্ত এজেন্টের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের-সহ নানা ঝামেলায় কেটে গিয়েছে তিনটে দিন। মৃত চাষির পরিবারে শোক এখন পরিণত হয়েছে ক্লান্তিতে। বছর ছত্রিশের অক্ষয়ের গলায় ক্ষোভ। বলেন, ‘এত বড় একটা ট্র্যাজেডি ঘটে গেল আমাদের সঙ্গে। সান্ত্বনা দেওয়া তো দূরের কথা, কেউ এক বার দেখাও করতে এল না। আমার বাবা যে চলে গেল, তাতে কারও কিছু যায়-আসে না।’