ডিফেন্স দেশ প্রথম পাতা

লাদাখ সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শহিদ ভারতীয় ২০ সেনা।

গত ৫ মে থেকে শুরু হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নিল লাদাখ সীমান্তে। এদিন চিন সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে শহিদ হলেন ভারতের ২০ জন জওয়ান৷ সোমবার রাতে লাদাখ সীমান্তে গালওয়ান ভ্যালিতে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়৷ মঙ্গলবার সকালে গালওয়ান ঘাঁটির পয়েন্ট ১৪-এ ভারত ও চিন সেনার মধ্যে সংঘর্ষের খবর আসে ৷ প্রাথমিকভাবে ১৫ তারিখ অর্থাৎ সোমবার রাতে হওয়া এই সংঘর্ষে ভারতীয় সেনার ১ কর্নেল সহ তিন জওয়ানের নিহত হওয়ার খবর আসে ৷ তখনই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত করে আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে ৷ রাত গড়াতেই সেই আশঙ্কাই সত্যি হল ৷ সংবাদসংস্থা এএনআই ২০ জন ভারতীয় সেনা জওয়ানের নিহত বলে দাবি করে ৷ এরমধ্যে রাজ্যের এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। শহিদ জওয়ানের নাম রাজেশ ওরাং। বীরভূমের মহম্মদবাজার থানা এলাকার বেলগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ ৫ বছর আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন । এরপর থেকে লাদাখেই কর্মরত ছিলেন তিনি ।এ দিন সংঘর্ষে শহিদ হন । মৃতের পরিবারের দাবি,

চিনকে যোগ্য জবাব দিক ভারত। শহিদ রাজেশের বোন শকুন্তলা ওরাং জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর তরফে মঙ্গলবার সন্ধে নাগাদ ফোন করে এই খবর জানানো হয়। সপ্তাহ দুয়েক আগে শেষবার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন রাজেশ। তাঁর বোন বলেন, “দূরে থাকলেও বাবা-মাকে নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করত দাদা। ফোন করে বলত, বেশি বাইরে না বেরোতে। বাবা যদি বাইরে যায় তাহলে যেন মাস্ক পরে।” এছাড়াও এদিন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় তিন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়ছে। না গোলাগুলিতে নয়। এক ভারতীয় জওয়ান সংবাদসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, এদিন ভারতীয় সেনা এবং চিনা সেনার মধ্যে তুমুল হাতাহাতি হয়। সেনাসূত্রে জানা গিয়েছে, চিনা সেনার ছোঁড়া পাথর আর ব্যাটনের আঘাতেই প্রাণ দিয়েছেন তিন জন। এঁদের মধ্যে একজন কর্নেল বি সন্তোষ বাবু তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। বাকি দু’জনের মধ্যে হাবিলদার পালানির বাড়ি তামিলনাড়ুতে এবং সেপাই ওঝার বাড়ি বিহারে। তেলেঙ্গানার সূর্যপেট জেলায় বাড়ি কর্নেল বাবুর। বাড়িতে বাবা, মা ছাড়াও আছেন স্ত্রী এবং দুই সন্তান। আট বছরের মেয়ে আর সাড়ে তিন বছরের ছেলে। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে বাবু। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমকে মা মঞ্জুদেবী বলেন, “আমি একই সঙ্গে দুঃখিত এবং গর্বিত। আমার ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। তবে একজন মা হিসেবে আমার কষ্ট হচ্ছে। ও ছিল আমার একমাত্র সন্তান।” প্রায় একই রকম বক্তব্য, কর্নেল বাবুর বাবা উপেন্দ্রর। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী উপন্দ্রবাবু বলেন, “ছেলেবেলা থেকেই আমার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেই ইচ্ছাপূরণ হয়নি। আমার স্বপ্নপূরণ করে আমার ছেলে। ও খুবই মেধাবী এবং কাজের ছিল। সেনাবাহিনীতে ১৫ বছর কাজ করার মধ্যেই অনেকগুলি প্রমোশন পেয়েছে।” ইতিমধ্যেই পরিবারকে সব রকমের সহযোগিতা করার ঘোষণা করে দিয়েছে কে চন্দ্রশেখর রাও সরকার। পাশাপাশি কর্নেল বাবুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও।

Spread the love