আন্তর্জাতিক প্রথম পাতা বাংলাদেশ

৩২ লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার,বাংলাদেশের বন্যায় ১৭ দিনের মধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৪!

নিজস্ব প্রতিনিধি : টানা ১৭ দিন ধরে জলের তলায় বাংলাদেশের ২৮টি জেলা। যার জেরে এখন পর্যন্ত মানুষের মৃ্তর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪। আরও ৯৫ জন মানুষ নিখোঁজ। যদিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে শেখ হাসিনা প্রশাসন। খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির ও স্বাস্থ্য শিবির। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৩২ লাখ মানুষ৷ এই বন্যা উত্তরাঞ্চল ছাড়িয়ে মধ্যাঞ্চল হয়ে ঢাকা শহরকেও প্লাবিত করতে পারে৷

সূত্রের জানা গিয়েছে, এক টানা বন্যার কারণে প্রায় ১৪ হাজার ৭৮১ জন মানুষ অসুস্থ হয়ে স্বাস্থ্য শিবির কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসাধীনে রয়েছে। তাঁদের দেখাশুনা চলছে। তবে এরমধ্যে আর ক্ষয়ক্ষতির সম্ভবনা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ধসের কবলে পড় ২৮ জেলায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জলবন্দি। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সিলেট, গাইবান্ধা, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।এছাড়াও ১ হাজার ৬১০ জন শ্বাসনালি জনিত সংক্রামণ নিয়ে চিকিৎসাধীন। অন্য প্রায় ৫ হাজার ৫৭১ জন মনুষ ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত। অপরদিকে ১ হাজার ৯০৫ জন চর্মরোগ নিয়ে ও ৪৭৯ চোখের সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসাধীন। একইসঙ্গে বন্যায় বিভিন্ন ভাবে আহত হয়ে আরও ৪০০ জন চিকিৎসাধীন।

বন্যার পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার বন্যার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মধ্যাঞ্চলের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে।জুলাইয়ের প্রথম দিকে শুরু হওয়া বন্যার ব্যাপকতা আপাতত কিছুটা কমলেও এখনও অন্তত ৭৪টি উপজেলায় মানুষ জলবন্দি রয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল, জামালপুর, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা ও বগুড়ায় ৯ জন জলতে ডুবে মারা গেছে।

তবে দুর্গত অনেক এলাকার মানুষই প্রয়োজনীয় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।জামালপুরের বন্যাদুর্গত একটি উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় দুসপ্তাহ ধরে জলবন্দি থাকায় তাদের পরিবারের শিশুদের মধ্যে জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়লেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাননি তারা।

চিন থেকে উজান বেয়ে আসা জলের তোড়ে বন্যায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ।

Spread the love