জেলা প্রথম পাতা

তৃণমূলের ১০০ জন বিধায়ক বিজেপিতে আসবেন, ওয়েট করুন! অর্জুনের মন্তব্যকে খোঁচা দিতে বেশী সময় নিল না তৃণমূলও

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরপরই বলে দিয়েছিলেন, আর যাই হোক, দীনেশ ত্রিবেদী এ বার জিতবেন না। প্রত্যাশা মতোই ভাটপাড়ার সেই বাহুবলী নেতা অর্জুন সিংকে ব্যারাকপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিজেপি। দীনেশ ত্রিবেদীর প্রধান প্রতিপক্ষ এ বার আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে জানিয়ে দিলেন, “তৃণমূলের একশ বিধায়ক বিজেপি-তে আসার জন্য লাইন দিয়ে আছেন। ওয়েট করুন দেখতে পাবেন।”সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অর্জুন সিংয়ের এই একটি লাইনেই এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল থেকে নতুন করে কারা তবে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন? এর মধ্যে কি রয়েছেন সল্টলেকের হেভিওয়েট নেতা সব্যসাচী দত্তও? উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগদানের জল্পনায় বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বঙ্গ রাজনীতি সরগরম। সম্প্রতি তাতে অর্জুন সিং ও খোদ সব্যসাচী দত্তের মন্তব্য আরও ইন্ধন জুগিয়েছে। দোলের দিনই সব্যসাচী দত্তকে বলতে শোনা যায়, ”আমি মেয়র হয়ে জন্মাইনি। মেয়র পদে যদিওবা না থাকি, এখানকার ঘরের ছেলে হয়ে থাকতে পারলেই যথেষ্ট।” এখানেই উঠছে প্রশ্ন, কেন একথা বললেন সব্যসাচী দত্ত?এসবেরই মাঝে  রবিবার অর্জুন সিং মন্তব্য করেন, ”এক জন নয়, আরও ১০০ জন বিধায়ক তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেবেন।” কবে তা প্রশ্ন করা হলে, হালকা হাসিতে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে একশ জন আসবেন না দশ জন আসবেন সেটা তো পরে দেখা যাবে।

কিন্তু অর্জুন শাসক দলের কর্মীদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে এ কথা বলেছেন এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যেই নিজের ‘ক্ষমতা’ দেখানো শুরু করে দিয়েছেন অর্জুন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীনেশ ত্রিবেদী সাংসদ হলেও, আসলে ব্যারাকপুরে তাঁকে পরপর দু’বার জেতানোর নেপথ্য কারিগর অর্জুনই। তাই এ বার তিনি নিজেই টিকিট চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। কিন্তু তা না হওয়ায় সোজা বিজেপি-তে চলে যান।তবে অর্জুনের মন্তব্যের পাল্টা দিতে বেশী দেরী করেন নি জেলা পর্যবেক্ষক জ্যাোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেন, ”১০০ জন কেন, ১ জন বিধায়কও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাচ্ছেন না।” অর্জুন সিং সম্পর্কে তিনি বলেন, ”ওর মতিভ্রম হয়েছে। কিছুদিন পরই আফসোস করবে। হতাশা ছাড়া আর তখন কিছুই করার থাকবে না। ওর চৈতন্য হোক।” বিজেপিতে গিয়েই দীনেশ ত্রিবেদীর বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর লোকসভায় অর্জুনকেই প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির।তবে এবার নির্বাচনে শিল্পাঞ্চলের লড়াই যে অন্যরকম হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে শেষ হাসি কে হাসবে তার উত্তর জানা যাবে ২৩শে মে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।