কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

২ মার্চ বিজেপি-র এক নেতা আমায় ফোন করেছিল!আপাতত বিজেপিকে ‘না’, শোভের ফ্ল্যাটে বসে সাফ জানালেন বৈশাখী

নিজস্ব প্রতিনিধি: গত দু’সপ্তাহ ধরে জল্পনা চলেছে। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়ানোর কোনও প্রশ্ন নেই। বুধবার তৃণমূল নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর কাছে বিজেপিতে যোগদানের প্রস্তাব রয়েছে বলে মেনে নেন বৈশাখীদেবী। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপির কোনও কথা হয়েছে কি না তা নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি তিনি। এদিন বৈশাখী বলেন, আমি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছি না। সরাসরি বিজেপির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাদের টিকিটে ভোটে লড়াই করার কোনও ইচ্ছা বা পরিকল্পনা আমার নেই। বৈশাখীদেবী বলেন, যে দলের জন্য বিন্দুমাত্র অবদান নেই আমার তার হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানো আমার নীতিবিরুদ্ধ। ডায়মন্ড হারবার বা অন্য কোনও কেন্দ্র থেকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে আমি ভোটে দাঁড়াবো না। আমি কারও কাছে ভয়ের কারণ হতে চাই না। কারও টিকিট ছিনিয়ে নেওয়ার ইচ্ছাও আমার নেই। বৈশাখী জানিয়ে দিলেন, “আমার এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে গুজব ছড়িয়েছে। তবে আপাতত আমি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছি না।” সেই সঙ্গে মিলি আল আমিন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপিকা জানিয়ে দেন, “শোভনদা এখনও তৃণমূলের বিধায়ক ও কাউন্সিলর। তিনিও কোনও দলে যোগ দিচ্ছেন না।”

সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন বৈশাখী। সেখানেই তিনি বলেন, “গত ২ মার্চ বিজেপি-র এক নেতা আমায় ফোন করে আসন অফার করেন। কিন্তু আমি মনে করেছি, যে দল আমি কখনও করিনি সেখানে গিয়ে হঠাৎ করে প্রার্থী হলে কর্মীরা ঠিকভাবে নেবে না।”

কয়েকদিন আগেই বৈশাখী দেবী সংবাদমাধ্যমকে ফোনে জানিয়েছিলেন, তিনি রায়চকে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন। তাঁর মা, মেয়ে এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় যে বাংলোতে ছিলেন তা ঘিরে রেখেছিল সশস্ত্র দুস্কৃতীরা। আড়াই দিন ধরে তাঁদের সেই অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন বৈশাখী। এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বৈশাখী সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সে দিন মিডিয়ার জন্যই বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি।” তাঁদের ওখানে আটকে পড়া নিয়ে টুইট করেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও। এ দিন শোভনবাবুর অধ্যাপিকা বান্ধবী বলেন, “সূর্যবাবুর ওই টুইট আমার বৃদ্ধা মা’র আতঙ্কে মলম হিসেবে কাজ করেছে।” এঁর পরেই তাঁকে বিজেপি-র হয়ে প্রচারে যাবেন কি না জিজ্ঞেস করেন এক সাংবাদিক। উত্তরে বৈশাখী বলেন, “আমি সিপিএমের হয়েও প্রচারে যেতে পারি। রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিচ্ছু নেই।”

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।