Uncategorized

শ্যাম্পু দিয়ে ধোওয়া হবে মনীষীদের মূর্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি— উত্তর-দক্ষিণ কলকাতার অলিতে-গলিতে চরম অযত্নে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-বিবেকানন্দরা! তাদের আদর্শ, বাণী প্রচারের জন্য আগে দেওয়াল লিখনের চল ছিল। কিন্তু এখন সম্মান জানানোর নতুন ‘ট্রেন্ড’, শহরের অলিতে-গলিতে তাঁদের মূর্তি স্থাপন। দায়িত্ব বলতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এইটুকুই। কাকের বিষ্ঠা, ধুলো, ময়লা মাথায় নিয়েই শহরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে নজরুল-বিবেকানন্দ-শ্যামাপ্রসাদদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূর্তির মান-অপমান নিয়ে মাথা ঘামাননি তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত সেই প্রতিষ্ঠাতারা। অতএব একপশলা বৃষ্টিই এতদিন পর্যন্ত মান বাঁচিয়ে এসেছে মূর্তিদের।।

কিন্তু ‘অপমান, অবহেলার চিহ্ন’ দেখে আর চোখ বন্ধ করে থাকতে নারাজ কলকাতা পুরসভা। বরং শ্যাম্পু দিয়ে প্রত্যেক মাসে ‘স্নান করানো হবে শহরের মূর্তিগুলিকে, এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু মূর্তি প্রতিষ্ঠাতারা ঠিক কি বলছেন। নিজেদের দায়িত্ব সম্বন্ধে? সম্প্রতি ধুমধাম করে ১১নং ওয়ার্ডে বিবেকানন্দের মূর্তির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিন্দ্য কিশোর রাউত। এই মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, রামকৃষ্ণ মিশনের তরফে এই মূর্তির দায়িত্বভার নেওয়ার কথাবার্তা চলছে। কিন্তু এখনও তাদের তরফে দায়িত্ব নেওয়া হয়নি বলে পুরকর্মীরাই বিষয়টি দেখেন।

২০১৮ সালের মার্চ মাস, ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার ঠিক পরেই সেখানে মূর্তি নিয়ে বিতর্ক এবং বিশৃঙ্খলা চরমে ওঠে। সেই আঁচ এসে পড়ে কলকাতাতেও। কালিমাখানো হয় শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে, ক্ষতবিক্ষত করার চেষ্টাও হয়। পরে একটি রাজনৈতিক দল দুধ দিয়ে মূর্তিটির অভিষেক করলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের প্রয়োজন মনে করেনি। এক্ষেত্রেও এগিয়ে এসেছিল কলকাতা পুরসভাই। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমার আবেদন করেছিলেন, যদি মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব নিতে পারেন সাধারণ মানুষ তবেই তা প্রতিষ্ঠা করা উচিত। কিন্তু আবেদনই সার, পরিসংখ্যান বলছে শহরে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে মূর্তির সংখ্যা।

মনীষীদের মূর্তি নিয়ে সাধারণ মানুষেরও কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে এমনটাই দাবি করেছেন কথাসাহিত্যিক শেখর বসু। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুরসভার ওপরেও কিছুটা দায়িত্ব থেকে যায়। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে শহরে মোট ৬৪টি মনীষীর মূর্তি রয়েছে। মূর্তিগুলির মলিন অবস্থা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভার হেরিটেজ বিভাগ। এক পুর আধিকারিক জানান, একটি ফাইল তৈরি করা হচ্ছে। মাসে দু’দিন পুরসভার উদ্যোগে শহরের সমস্ত মূর্তি শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করা হবে। সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য টেন্ডার ডাকা হবে বলেও জানা গেছে। কিন্তু কেন পুরসভার তরফে এই উদ্যোগ? বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে কিছুটা কটাক্ষের সুরেই ওই আধিকারিক জানান, রাম, শ্যাম, যদু, মধু যে যেখানে পারছে মুর্তি বসিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু নজরুল বা রবীন্দ্রনাথের মাথায় কাকের বৃষ্ঠা দেখা পুরসভার কাছেও অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, মূর্তিগুলির এই অবস্থা দেখে বাইরে থেকে আগত কোনও ব্যক্তি বা শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই ‘মান বাঁচাতেই’ এই পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এক্ষেত্রে মই এবং জল দেবে পুরসভা নিজেই। যে সংস্থা টেন্ডার পাবেন তাদের কর্মীরা মূর্তি পরিষ্কার করবেন।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।