কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

শোভন-বৈশাখীর দিকেই নজর রাখছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব! বৈঠকেই জট কাটাতে চাইছে রাজ্য বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে লোকসভার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ২৩টি আসন জেতার টার্গেট দিয়েছে দিলীপ ঘোষ-রাহুল সিনহাদের। তাই প্রার্থী পদ বাছাই থেকেই তৃণমূলকে চমক দিতে চাইছে বিজেপি।একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায় চাইছেন কি করে রাজ্যে পদ্মের বিকাশ ঘটানো যায়। ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে প্রার্থী করতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। ওই মহিলাকে নিয়েই আপত্তি সঙ্ঘ পরিবারের। জনমানসে প্রতিষ্ঠিত, ওই মহিলার কারণেই নাকি সব ক্ষমতা ত্যাগ করেছেন ওই নেতা। তবে তাঁকে প্রার্থী করলে সঙ্ঘের সনাতনী ঐতিহ্যেই আঘাত লাগবে বলে মনে করছে সংঘ পরিবার।সপ্তাহ খানেকে ধরে সেই টানটান রাজনৈতিক চিত্রনাট্য এখন প্রায় ক্লাইম্যাক্সে। বুধবার সন্ধ্যার পরে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করলেন রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী, চালালেন মানভঞ্জনের চেষ্টা। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতায় বেশি রাত পর্যন্ত চলা এক বৈঠকে প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেল যে, ৯-১০ মার্চের মধ্যে চমকপ্রদ কোনও ঘোষণা করতে চলেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।জানা গিয়েছে, গত এক বছরে তৃণমূলের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয় এবং ক্রমশ বিজেপির কাছাকাছি পৌঁছে যান বৈশাখী।  সে ঘনিষ্ঠতা এ বার গাঁটছড়ায় রূপান্তরিত হতে চলেছে বলে জোর জল্পনা রাজ্যের রাজনৈতিক শিবিরে।

বাংলায় নির্বাচন সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির যে নেতারা, তাঁদেরই দু’জন বুধবার রাতে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘন্টা দেড়েক বৈঠক করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে এই নিয়ে তিন বার বৈশাখীর সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপি তথা সঙ্ঘের নেতারা।  বুধবার রাতের এই বৈঠকটি বিজেপির জন্য অনেকটাই ফলপ্রসূ হয়েছে বলে খবর। যিনি সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছিলেন বলে গোটা প্রক্রিয়াটা ঝুলে ছিল, সেই শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ প্রায় স্থির করে ফেলেছেন এবং সেই পদক্ষেপ তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। শোভনের ঘনিষ্ঠরাই এ কথা জানাচ্ছেন।বিজেপির যে দুই নেতা বুধবার রাতে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তাঁরা আগামী ৯ মার্চ দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শোভন-বৈশাখীর যোগদানের বিষয়টা সম্পর্কে শাহ নিজেই খোঁজখবর রাখছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। তাই বাংলায় নির্বাচন সামলানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে শাহের বৈঠকের পরেই শোভন-বৈশাখী সংক্রান্ত জল্পনার চূড়ান্ত পরিণতি জানা যাবে। 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।