কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

লড়াইয়ে নামার আগেই ‘অভিনন্দন’ বার্তা, তৃণমূল সাংসদ দেবের

নিজস্ব প্রতিনিধি : লোকসভা নির্বাচনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগেই অভিনন্দন বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ দীপক অধকিারী(দেব)। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এই অভিনেতা ট্যুইটারের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিপিএমের তপন গঙ্গোপাধ্যায়কে।

তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী টুইট লিখলেন,“ঘাটালে সিপিআইএম প্রার্থী শ্রী তপন গাঙ্গুলি কে অভিনন্দন। আমরা যেই জিতি বা হারি সবাই একসঙ্গে ঘাটাল এর মানুষজনের সুখ দুঃখের সঙ্গে থাকবো। ঘাটালের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবো। আমাদের মতবিরোধ যেন উন্নয়নের অন্তরায় না হয়।”

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্টের তরফে প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের তপন গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবারই তাঁর নাম ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। আর তার পরই দেব ট্যুইট করেন।

গত মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম বামফ্রন্ট প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকাতেই রয়েছে দেবের প্রতিপক্ষ তপন গঙ্গেপাধ্যায়ের নাম।

২০১৪ সালে দেব প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। ঘাটাল থেকে ভোটে জিতে প্রথমবার সাংসদও হন সেবার। এবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আবার প্রার্থী করেছেন ঘাটালে।

ভোটের ময়দানে নেমে যখন প্রত্যেক প্রার্থীই ক্ষোভ উগরে দেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, তখন দেবের এই সৌজন্যমূলক ট্যুইটে অবাক রাজনৈতিক মহল।

বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গত বিশ বছরে জাতীয় স্তরে কম সমালোচনা হয়নি। ২০০১ সালের কথা। তখন কেন্দ্রে এনডিএ-র শরিক ছিল তৃণমূল। রাজ্যে তখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার চলছে। বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গে তৎকালীন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী একবার বলেছিলেন, “রাজনীতিতে আমরা সবাই প্রতিপক্ষ। পৃথক পৃথক মতাদর্শ নিয়ে লড়ছি। তবে কেউ কারও শত্রু নয় কিন্তু! এটা মনে রাখতে হবে”। ইদানীং কালের রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যও অনেকটা সেরকমই। আবার অতীতে যাই হোক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখন বাম নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অসুস্থতার কথা শুনলে, তাঁর বাড়ি চলে যান। কোনও বামনেতার শরীর খারাপের কথা জানতে পারলে হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।