প্রথম পাতা

লোকসভার প্রার্থী হয়ে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন, দুধকুমারের মাস্টার স্ট্রোক

নিজস্ব প্রতিনিধি— বিজেপি’র প্রাক্তন জেলা সভাপতি দুধকুমার মণ্ডলের মাস্টার স্ট্রোক। দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকার পর নিজের দলের গোষ্ঠীকোন্দলের জবাব দিতে এবার লোকসভার প্রার্থী হয়ে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি। বিজেপির জেলাস্তরের অনেক নেতাই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই ঘোষণার পর হতবাক হয়ে যান। প্রশ্নের উত্তর হারিয়ে ফেলেন বর্তমান বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়। তাঁর কথা তিনি জানতেনই না। তিনি বলেন, ‘কে প্রার্থী হবেন, সেটা আমার জানার কথা নয়। প্রার্থী নির্ধারণ করবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, সদ্য পেরিয়ে যাওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের উন্নয়নের স্রোতে বিজেপির বেশির ভাগ প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। অভিযোগ, তৃণমূল তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি। সেই জায়গায় বিজেপি নেতা দুধকুমার মণ্ডল জেলাস্তরে কোনওরকম সাহায্য ছাড়াই তিনি পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিজের আসনে মনোনয়ন জমা দেন এবং তিনি জয়লাভ করেন। এমনকি এ রাজ্যে বিজেপি যখন টিমটিম করে তার অস্তিত্ব ধরে রেখেছিল, তখন থেকেই প্রবল পরাক্রমে সিপিএমের সঙ্গে লড়াই করে পঞ্চায়েতে একাধিকবার জয়ী হয়েছেন দুধকুমার। সেই ঘটনার পর বীরভূম জেলা বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি অসহযোগিতার অভিযোগে কেন্দ্রের কাছে গিয়ে পৌঁছয়। যার ফলে সেই দুধকুমার মণ্ডলকে লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, এমনটাই দাবি করেছেন বিজেপির দুধকুমার অনুগামীরা।

বৃহস্পতিবার হোলি উৎসবের দিন প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। সারা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ২৮ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা যায়, বীরভূম থেকে তৃণমূল প্রার্থী শতাব্দী রায়ের বিরুদ্ধে দুধকুমার মণ্ডলকে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি। প্রার্থী তালিকায় নাম ঘোষণার পরই এদিন সকাল থেকে প্রচারে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন দুধকুমার মণ্ডল। সকাল থেকে দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে শুরু করেন তার প্রচার। একসময় জেলা বিজেপি’র সভাপতি পদে ছিলেন দুধকুমার। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনীতির পৃষ্ঠা থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তারপর আবার ধীরে ধীরে প্রত্যাবর্তন। শেষমেশ ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম থেকে বিজেপি প্রার্থী।

শুক্রবার প্রার্থী হিসেবে প্রচারে নেমেই তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নানান দাওয়াইকে কটাক্ষ করলেন দুধকুমার। তাঁর দাবি, ‘সাধারণ মানুষই তার এসব নানান টোটকা (নকুলদানা-জল, পাঁচন)-এর জবাব দিয়ে দেবেন। তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বারবার এইসব দাওয়াই দিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভীতির সৃষ্টি করেছেন, তার জবাব এবছর মানুষ দেবে। শুধু তাই তিনি এদিন তাঁর বিরোধী প্রার্থী দু’বারের সাংসদ তথা অভিনেত্রী শতাব্দী রায়কেও ‘মরশুমের পাখি’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘শতাব্দী হল বীরভূমের মরশুমি পাখি।’ এখান থেকে ভোট নিয়ে জিতে চলে যান, তারপর আর সেভাবে দেখা মেলে না।

প্রসঙ্গত, দুধকুমার মণ্ডলের কেন্দ্রে শতাব্দী রায় গত ১০ বছর ধরে সাংসদ। তাই শতাব্দী রায়ের সঙ্গে তাঁর লড়াই কতটা কঠিন হবে, প্রশ্ন করতেই দুধকুমার মণ্ডল দাবি করেন, এবছর শতাব্দী রায় নিশ্চিতভাবে বীরভূম আসনে হারবেন। বিজেপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। তিনি বলেন, শতাব্দী এবছর এই কেন্দ্রে নিশ্চিহ্ন হারতে চলেছেন। আর বিপুল ভোটে জয়লাভের পর আগামী ২৩ মে আবার আবির খেলায় মাতব আমরা। এদিন তিনি প্রথমবার প্রার্থী হওয়ার পর সিউড়িতে রামকৃষ্ণ সভাগৃহে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের অনেক জেলা নেতৃত্ব।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।