Uncategorized

রাহুল-ইয়েচুরির কোর্টেই এখন বাম-কংগ্রেস জোটের ভবিষ্যৎ

নিজস্ব প্রতিনিধি— রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ আসন নিয়ে জটিল পরিস্থিতির কোনও সমাধান না হওয়ায় এবার চতুর্মুখী লড়াইয়ের ভাবনা শুরু করেছে কংগ্রেস। জোট পরিস্থিতি জটিলতা কাটাতে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধি। কেন সিপিএমকে এই দুটি আসন ছাড়া সম্ভব নয়, তা নিয়ে বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। সোমেনবাবুর কাছে এই দুটি কেন্দ্র নিয়ে বক্তব্য শুনে শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় রাহুল গান্ধি এব্যাপারে শীঘ্রই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে উদ্যোগী হবেন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে দুটি আসন নিয়ে কংগ্রেস সিপিএমের মধ্যে রীতিমতো বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। সিপিএমের মতো কংগ্রেসও এই দুটি আসন ছাড়তে নারাজ| জোটের জটিল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার দিল্লিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র এবং সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাহুল গান্ধি। কেন কংগ্রেস এই দুটি আসনের দাবিদার সেবিষয়টি রাহুলকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেন সোমেন মিত্ররা। বৈঠকে সোমেনবাবু এবং প্রদীপ ভট্টাচার্য সর্বভারতীয় সভাপতিকে বলেন, একাধিকবার সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনও সমাধানসূত্র বের করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় সিপিএম নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে কংগ্রেসের পক্ষে চতুর্মুখী লড়াই ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। তবে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি এবং তৃণমূলকে হারাতে বামেদের সঙ্গে যে জোটবদ্ধতা জরুরি সেটা সর্বভারতীয় সভাপতিকে জানাতে ভোলেননি প্রদেশ সভাপতি। সমস্ত কিছু শুনে সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধি প্রদেশ নেতৃত্বকে বলেছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে আলোচনা করবেন। আলোচনার পরেই প্রার্থী তালিকার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে দলীয়সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে বৈঠকের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, তারা বাস্তব পরিস্থিতির বিষয়টি রাহুলজিকে বলেছেন। বিগত নির্বাচনে রায়গঞ্জে কংগ্রেস সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছিল। এই কেন্দ্রটি থেকে অতীতে একাধিকবার জয়ী হয়েছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী। রায়গঞ্জ কেন্দ্রটি নিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে একটি আবেগ জড়িত। আর সেকারণে এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস দীপা দাশমুন্সীকে প্রার্থী করতে আগ্রহী। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রকে কেন কংগ্রেস হাতছাড়া করতে নারাজ সেটাও পরিষ্কার জানিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি। এপ্রসঙ্গে সোমেনবাবুর যুক্তি, গত পাঁচবছরে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস শক্তিশালী হচ্ছে। জনসমর্থনও বাড়ছে। এই কেন্দ্রে দলে দলে সিপিএম, তৃণমূল থেকে কর্মী এবং সমর্থকরা কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। সেকারণে তাঁদের পক্ষে এই দুটি আসন ছাড়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে জোট পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলেও ফের জোটের পক্ষে সওয়াল করতে দেখা গেছে সিপিএমের সাধারন সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে। ইয়েচুরির পাল্টা বক্তব্য, বাংলায় জোটের প্রধান উদ্দেশ্য হল লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপিকে পরাস্থ করা। দলের এই সিদ্ধান্তের কথা রাজ্যবাসী জানেন। আর সেকারণেই আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রদেশ কংগ্রেসের নির্বাচনী কমিটির আরও ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে হাইকমান্ড। ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন সাংসদ অভিজিৎ মুখার্জি, বিধায়ক অসিত মিত্র, প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায়, শুভঙ্কর সরকার এবং কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।