Uncategorized

যে ভাটপাড়ায় বিজেপি পতাকা ধরার সাহস পেতে না, সেখানে মমতার ছবি হোর্ডিং সরিয়ে এখন গেরুয়া রঙে ভাসছে

নিজস্ব প্রতিনিধি— ভাটপাড়া পুরসভার ভবিষ্যত কি হবে? এই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাতারাতি তৃণমূল থেকে কি গেরুয়া হয়ে যাবে এই পুরসভা? নাকি এই পুরসভা কি তৃণমূলের হাতে থাকবে? বৃহস্পতিবার অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে এই প্রশ্ন সবথেকে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্জুনের যোগদানের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কয়েকজন কাউন্সিলরকে নিয়ে মধ্যমগ্রামে বৈঠকে বসেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-সহ তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব। শাসকদলের নেতাদের দাবি, কাউন্সিলরদের অধিকাংশ তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দাবি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে ২০-২২ জন কাউন্সিলর রয়েছে। যদিও অর্জুন সিং গোষ্টীর দাবি, তাঁদের হাতেও ২০-২২ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। ভাটপাড়া পুরসভায় ৩৫ জন কাউন্সিলর রয়েছে। তার মধ্যে ৩৪ জনই তৃণমূলের এর মধ্যে অর্জুন গোষ্ঠীর দাপট বেশি। অর্জুন তৃণমূল ছেড়ে দেওয়ার পর ভাটপাড়া পুরসভা তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকে কিনা এখন সেটাই দেখার। ড্যামেজ কন্ট্রোলে দফায় দফায় বৈঠক চলছে তৃণমূলে। নজর রাখা হয়েছে শীর্ষস্তর থেকে।

যদিও ভাটপাড়া পুরসভায়। যে দৃশ্য দেখা গিয়েছে, তা শাসকদলের চিন্তার কারণ হতে পারে। এলাকায়। তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসও বিজেপি দখল করে নিয়েছে।

ভাটপাড়া পুরসভার জনা কুড়ি কাউন্সিলরকে বৈঠকে ডেকেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। আগামী দু-একদিনের মধ্যে ভাটপাড়া পুরসভায় অনাস্থা আনা হতে পারে, এমন আশঙ্কাও ছড়িয়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘অনাস্থা হলে প্রশাসক বসবে। তাতে উন্নয়নের কোনও সমস্যা হবে না। এর জন্য কি কাউন্সিলরদের গোপন ডেরায় রাখা হবে? তাঁর উত্তর, ‘বিশেষ ব্যবস্থা করেছি। কাউন্সিলররা বাড়িতেই থাকবেন। ওঁরা সকলে তৃণমূলের পক্ষেই রয়েছেন। মহম্মদ নাসিরউদ্দিন খান নামে এক কাউন্সিলর বলেন, ‘অর্জুন সিংয়ের কাজকর্মে মানুষ অসন্তুষ্ট, উনি গিয়ে ভালোই হয়েছে।

তবে ভাটপাড়ার ছবি কি শাসকদলকে খুব স্বস্তি দেবে? যে ভাটপাড়ায় এত দিন কেউ গেরুয়া পতাকা ধরার সাহস পেতেন না, সেখানেই সকাল থেকে উচ্ছাস। তবে অর্জুন অনুগামীদের এই উল্লাসে গা ভাসাননি সাধারণ মানুষ। অনেক কাউন্সিলর খোলাখুলি বলে দিয়েছেন, তাঁরা অর্জুনের সঙ্গে থাকবেন। পুরসভার কাজকর্ম শিকেয়। নীচ থেকে উপরতলা— সর্বত্র আলোচনা অর্জুনকে নিয়ে। অর্জুনের ঘরে বসেছিলেন ২২জন কাউন্সিলর। সামনে টিভি খোলা। বাইরে অসংখ্য অনুগামী। ঘর থেকে রাতারাতি সরে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। নেত্রীর যে ছবি সর্বদা অর্জুনের টেবিলে থাকত, সেটির ঠাই হয়েছে রান্নাঘরের ফ্রিজের উপরে। কোনও ছবি আবার আলমারির উপরে উল্টে রাখা।

বিজেপিতে অর্জুনের যোগদান-পর্ব মিটতেই কাউন্সিলররা অর্জুনের নামে স্লোগান দিতে থাকেন। নিজেদের মধ্যে মিষ্টিমুখ করেন তাঁরা। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দূব ভট্টাচার্য বলেন, ‘অর্জুন সিংকে ভাটপাড়ার সকলে ভালোবাসেন। আমরা ওঁর পাশে রয়েছি।’ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহন দাস বলেন, “আমরা কবে বিজেপিতে যাব, সেটা অর্জুন সিং এসে ঠিক করবেন। আমাদেরও মধ্যমগ্রামে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজন বোধ করিনি।জগদ্দল ও ভাটপাড়া যুব তৃণমুলের দুই সভাপতি অমিতকুমার সাউ ও বাবলু সাউ বলেন, “পাঁচ হাজার সক্রিয় কর্মী। আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তাঁরাও বিজেপিতে যোগ দেবেন।

জগদ্দলের যে মজদুর ভবনে বসে অর্জুন সিং মানুষের সমস্যার কথা শোনেন, সেটি সুনসান। ভবনের গায়ে লাগানো তৃণমূলের পতাকা, হোর্ডিং খুলে ফেলা হয়েছে। অর্জুন সিংয়ের ভাইপো সৌরভের নেতৃত্বে শ্যামনগর আটপুর নিউ কর্ড রোডের তৃণমূল অফিসের দখল নিয়েছে বিজেপি। রাতারাতি গেরুয়া রং করা হয়েছে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।