কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

মুকুলের আগমনের পরেই তৃণমূলের বৈঠক এড়ালেন সব্যসাচী!’গদ্দারকে’ লুচি-আলুরদম খাওয়ানো ভালো চোখে নিচ্ছে না শাসক শিবির

নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূলের ডাক উপেক্ষা করলেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। শনিবার মধ্যমগ্রামে বসেছিল তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক৷ জানা গিয়েছে, সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় সব্যসাচী দত্তকে৷ কিন্তু বিধাননগরের মেয়র ফোনে জানিয়ে দেন, শারীরিক ভাবে অসুস্থ৷ তাই বৈঠকে হাজির থাকতে পারবেন না৷ মুকুল রায় যখন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিলেন, তখন তাঁর অনুগামীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সব্যসাচী৷ পরিচিত মহলে মুকুল রায়কে নিজের রাজনৈতিক গুরু বলেও পরিচয় দিতেন বিধাননগরের মেয়র৷ এমনকী, তৃণমূল ছেড়ে মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদান করলেও গুরু-শিষ্যের সম্পর্কে ফাঁটল ধরেনি বলে একাধিকবার জানিয়েছিলেন মুকুল রায়৷ বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর বাড়িতে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের আগমনকে ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুকুল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে, পরে বিজেপিতে যোগদানের পর প্রায় সব সমাবেশেই তাকে “গদ্দার” আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর সেই “গদ্দার”-কে নিজের বাড়িতে বসে লুচি আলুর দম খাওয়ানোকে কার্যত অপরাধ বলেই ধরছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। সব্যসাচী-মুকুল তাদের সাক্ষাৎকারকে সৌজন্যে সাক্ষাৎ বলে ব্যাখ্যা করলেও, তা মানতে নারাজ বাংলার রাজনৈতিক মহল। কারণ আগামী লোকসভা ভোটে রাজ্যের বেশি সংখ্যক আসনে তৃণমূলের প্রতিপক্ষ বিজেপি। এমতাবস্থায় একজন তৃণমূল বিধায়ক তথা মেয়রের বাড়িতে বিজেপি শীর্ষ নেতার ঘন্টাখানেক বৈঠকের বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার এক সদস্যের কথায়, “সব্যসাচীর বাড়িতে মুকুলের এহেন আগমন দল বিরোধী কাজে সামিল।” তৃণমূল নেতৃত্ব জেনেছে সব্যসাচী দত্তকে পদ্ম প্রতীকে বারাসাত লোকসভা প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মুকুল রায়। সেই বিষয়ে আলোচনা করতে প্রকাশ্যেই মুকুল রায়-সব্যসাচী দত্তর বাড়িতে এসেছিলেন। সূত্রের খবর, এ বিষয়ে এখনই কোনও পদক্ষেপ নেবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বরং আগামী মে মাসে লোকসভা ভোটের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় তারা। তারপরই এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের ভাবনা এখনই বহিষ্কার বা সাসপেন্ডের মত কোন ব্যবস্থা সব্যসাচী দত্ত বিরুদ্ধে নিলে তিনি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। ভোটের আগে সব্যসাচী দত্তের মতো মেয়র তথা বিধায়ককে হারাতে নারাজ জোড়া ফুল শিবির।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।