কলকাতা জেলা দেশ প্রথম পাতা

মুকুলদা কৃষ্ণ,আমি অর্জুন! দিল্লিতে দাঁড়িয়ে ব্যারাকপুর লোকসভায় তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ দাপুটে ‘অর্জুনের’

নিজস্ব সংবাদদাতা: ঘাসফুল ছেড়ে বিজেপি’তে যোগদান করতে চলেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং। শুধু অর্জুন সিংই নয়, এই নেতার দাবি তাঁর সঙ্গে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৫০ জন কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি’তে যোগদান করতে পারেন। এই জল্পনা উঠেছিল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই। আশঙ্কা সত্যি করে মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয় পাশে নিয়ে দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গেরুথয়া শিবিরে নাম লেখান ভাটপাড়ার দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং। তৃণমূল কংগ্রেসের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এই নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। যতদূর জানা গিয়েছিল, অর্জুন সিংকে লোকসভা ভোটের পর রাজ্য মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে, এমনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যদিও লোকসভা ভোটের প্রার্থী যেদিন ঘোষণা করা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে তার আগের দিন অর্জুন সিং দিল্লি যান এবং পরের দিন ফিরে আসেন।বিজেপিতে  যাওয়ার পর অর্জুন সিংকেই  ব্যারাকপুরে প্রার্থী করবে বিজেপি নেতৃত্ব তা এক রকম পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর লড়াইটা যে কঠিন হয়ে গেল এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই।

বিজেপিতে অর্জুন সিং যোগ দেওয়ার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ৩০ বছর কাজ করেছি। যখন তিনি যুব কংগ্রেস নেত্রী সেইসময় থেকেই তাঁর পাশে ছিলাম। মুকুলদার সাথেও একসাথে বহুদিন কাজ করেছি।কিন্তু সরকারে আসার পর থেকে দলের পুরোনো কর্মীদের যেভাবে সাইড করে দেওয়া হয়েছে তা যথেষ্ট অস্বস্তিদায়ক।মা-মাটি-মানুষ এখন মানি-মানি-মানি হয়ে গিয়েছে। মুকুলদা কৃষ্ণ, আমি অর্জুন। আমরা তো সবে শুরু করেছি সব জায়গাতেই আসতে আসতে আসব।  বাংলার সরকার টিকে আছে পুলিশের ওপর। দলদাস হয়ে পুলিশ কাজ করছে। বিজেপি কর্মীদের পুলিশ তাদের নিশানা বানিয়ে নিয়েছে। এই অবস্থায় তৃণমূলের হয়ে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। মোদিজীর নেতৃত্বে এখন দেশের হয়ে কাজ করতে চাই।তবে অর্জুনের বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ওর বিষয়ে কোন কথা বলাই অনর্থক। কে এল কে গেল তাতে কিছু যায় আসে না। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরি ভরসা রাখে।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।