জেলা প্রথম পাতা

মাসরুম চাষ করে স্বনির্ভর মহিষাদলের টোটন

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজ্যসরকারের কৃষি দপ্তর আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক- যুবতীদের স্বনির্ভর  হওয়ার পথ দেখাচ্ছেন। রাজ্যসরকারের আতমা প্রকল্পে সূর্যমুখি, মাসরুম, মিষ্টি কুমড়ো চাষের জন্য উৎসাহী  চাষিদের ট্রেনিং  দিয়ে  তাদের বীজ ও চাষের উপকরণ তুলে দেওয়া হচ্ছে। মহিষাদল ব্লকে আতমা প্রকল্পে মাসরুম চাষ করে স্বনির্ভর  হয়েছেন টোটন মন্ডল৷  টোটন মন্ডল মহিষাদল ব্লকের সতীশ সামন্ত গ্রামপঞ্চায়েতের গোপালপুরের বাসিন্দা। ছোট থেকেই চাষবাসের  প্রতি আগ্রহ ছিল টোটনবাবুর৷ মাধ্যমিক  পাশ করার পর বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় হলদিয়ায় একটি কারখানায় অস্থায়ী  শ্রমিকের কাজে নিযুক্ত হন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে কারখানার উৎপাদন ব্যহত  হয়। ফলে সাংসার চালাতে সমস্যায় পড়েন টোটনবাবু। এর পর কোলাঘাটে বায়ান বেড়িয়া শ্রীনিবাস  বিদ্যামন্দিরে  ২ বছরের কৃষি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ  নিয়ে বাড়িতে মাসরুম  চাষ শুরু করে। কিন্তু কোনভাবে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছিল না। পরে মহিষাদল ব্লক কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের সহযোগিতায় আতমা প্রকল্পে মাসরুম চাষের ট্রেনিং নিয়ে চাষের বীজ ও উপকরণ  নিয়ে চাষ শুরু করে। বর্তমানে মাসরুম চাষ করে স্বনির্ভর  হয়ে উঠেছে টোটনবাবু।

টোটনবাবু বলেন, প্রশিক্ষণ  নেওয়ার পর বীজ কিনে মাসরুম চাষ শুরু করি। ভালো ফলন হয়নি। পাশাপাশি  বাজারজাত  করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। পরে মহিষাদল ব্লক কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের সারহে যোগাযোগ  করে তাদের পরামর্শমত চাষ করে ফলন ভালো হচ্ছে।  সেই সাথে বাজারজাত  করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।  এখন মাসে পনেরো  থেকে কুড়ি হাজার টাকা মাসে আয় হচ্ছে। মাসরুম চাষ করে এখন পরিবারের লোকজনদের নিয়ে সুখেই রয়েছি। দেড় থেকে দু ডেসিমল জায়গায় মাসরুম চাষ করে এখন প্রতিদিন দশ থেকে বারো কেজি করে মাসরুম ফলছে।

মহিষাদল ব্লক সহ কৃষি আধিকারিক  কাজলকৃষ্ণ বর্মন জানান, বর্তমান সময়ে মাসরুম চাষের জন্য উৎসাহিত ব্লকের বহু চাষি তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ  দিয়ে চাষের কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মহিষাদল ব্লকের ৪ জন প্রগতিশীল  চাষি মাসরুম  চাষ করে স্বনির্ভর  হয়ে উঠেছেন।  আরো অনেক চাষিকে চাষের আওতায়  নিয়ে এসে তাদের প্রশিক্ষণ  দিয়ে চাষের কাজ শুরু হয়েছে।

মহিষদল ব্লকের বিটিএম কৃষাণু লাল ও সহকারি বিটিএম শুভ সামন্ত জানান, আতমা প্রকল্পের মধ্যদিয়ে ব্লকের চাষিদের বিভিন্ন চাষের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের চাষের জন্য চাষের বীজ ও তার উপকরণ  তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্লকের  চারজন প্রগতিশীল চাষিকে মাসরুম, ২২জনকে সূর্যমুখী ও চারজনকে মিষ্টি কুমড়ো   বীজ ও উপকরণ  প্রদান করা হয়েছে। ব্লকে অন্যান্য চাষের পাশাপাশি  মাসরুম চাষের চাহিদা বেড়েছে অনেক।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।