কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

মহম্মদ সেলিম কি লেনিন নাকি? আসন সমঝোতা নিয়ে খোঁচা সোমেনের

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০১৯শে লোকসভা ভোটের আগে বাংলায় সিপিএম-কংগ্রেসের জোট সম্ভাবনা কি বিনষ্ট হবে? রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ আসন দুটি নিয়ে গোঁ ধরে রয়েছে প্রদেশ। কিন্তু এর মধ্যেই গতবারের দুটি জেতা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিল রাজ্য বামফ্রন্ট। শুক্রবার রাজ্য বামফ্রন্টের বৈঠক শেষে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ঘোষণা করেন, এ বারও রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদে সিপিএমের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মহম্মদ সেলিম এবং বদরুদ্দোজা খান।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এটা প্রত্যাশিত ছিল না। আমরা হাইকম্যান্ডকে জানাব।” যদিও বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কংগ্রেসের জেতা চারটি আসনে প্রার্থী দেবে না বামফ্রন্ট। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার সমাধান সূত্র এর মধ্যে বেরোলে ভাল, না হলে পরের সপ্তাহেই বাকি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ”মহম্মদ সেলিম কি লেনিন নাকি? আগে রায়গঞ্জের মানুষকে গিয়ে বোঝান। ওনার কথা সেখানকার লোকেই শুনছে না। সংসদে গিয়ে তো বিরাট বিপ্লব ঘটিয়েছেন!” বলে রাখি, সংসদে একাধিকবার কংগ্রেসের সঙ্গে কক্ষ সমন্বয় করে বিজেপি ও তৃণমূলকে বিঁধেছেন সুবক্তা মহম্মদ সেলিম। 

২০১৪ সালে রায়গঞ্জে জিতেছিলেন সিপিএমের মহম্মদ সেলিম এবং মুর্শিদাবাদে জয়ী হন সিপিএমের বদরুদ্দোজা খান। গতবারের পরাজিত প্রার্থী দীপা দাশমুন্সি রায়গঞ্জ ছাড়তে নারাজ। তাঁর যুক্তি, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির আবেগে এবার কংগ্রেসের সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া ২০১৪ সালে মাত্র দেড় হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন সিপিএম প্রার্থী। 

এ দিন রায়গঞ্জে সেলিম বলেন, “কথা হয়েছিল যার যেটা জেতা আসন, সে সেখানে একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়বে না। এটাই ভদ্রলোকের চুক্তি। ২০১৬ সালেও একইভাবে আসন সমঝোতা হয়েছিল। এখন কংগ্রেস যেটা করছে সেটাকে এঁড়েপনা বলে।” প্রসঙ্গত, চোদ্দর ভোটে বাংলায় কংগ্রেস চারটি এবং বামেরা দুটি আসন জিতেছিল। রায়গঞ্জে সেলিম জিতেছিলেন দেড় হাজার ভোটের কম ব্যবধানে। কংগ্রেসের বক্তব্য, ওই আসনে এ বার সিপিএম কিছুতেই জিততে পারবে না। কিন্তু নিজেদের জেতা দুটি আসন ছাড়তে রাজি নয় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। এ কথা স্পষ্ট করেছেন সীতারাম ইয়েচুরিও। সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, “এই পরিস্থিতিতে যদি জেতা দুটি আসন ছেড়ে দেওয়াই হয় কংগ্রেসকে, তাহলে কর্মীদের মনোবল ধাক্কা খাবে।”

সেলিম ব্যখ্যা করে বলেন, কে কত ভোটে জিতল সেটা মাপকাঠি নয়। কার জেতা আসন সেটাই মাপকাঠি। তাঁর কথায়, ষোলর ভোটে কালিয়াগঞ্জ এবং গোয়ালপোখর আসন কংগ্রেসকে ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু সে বার ১১-র বিধানসভার নিরিখে আসন ভাগাভাগি হয়েছিল। চোদ্দর ভোটের নিরিখে নয়।

অন্যদিকে, বুধবার দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে সোমেন মিত্র স্পষ্ট জানিয়ে এসেছেন, মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ আসন দুটি চাই কংগ্রেসের। ওই দুটি আসনেই জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। গতবার সিপিএম জিতলেই সেই সংগঠন তাদের নেই। শর্তে রাজি না হলে ৪২টি আসনেই প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের আবদার মানবে সিপিএম। ওই দুটি আসন তাদের ছাড়া না হলে সমঝোতার পথে হাঁটবে না আলিমুদ্দিন। 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।