কলকাতা দেশ প্রথম পাতা

ব্যাঙ্কের আপত্তি কানে তোলে নি মোদী সরকার! কেন্দ্রের নোটবন্দির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল আরবিআই, সামনে এল নয়া তথ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা: মোদী সরকার শাসনকালে নোটবন্দি। এককথায় বললে যা বোঝায় তা হল রাতারাতি ৫০০, ১০০০টাকার নোট বাতিল। কেন্দ্রের দাবি ছিল আচমকা নোটবন্দির সিদ্ধান্ত না নিলে কালো টাকা ধরা যাবে না। কিন্তু দেশবাসীর বক্তব্য ছিল কোন কিছুর পরিকল্পনা ছাড়াই কি করে এত বড় সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার। বিরোধীরাও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে বারবার বলেছে নোটবন্দি ব্যর্থ। কেন্দ্র কালো টাকা তুলতে পারে নি। তবে তা কোনদিনও মানতে চান নি বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নোটবাতিলের সেই সিদ্ধান্ত যেন ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার শিরোনামে উঠে আসতে চলেছে। কারণ, জানা গিয়েছে সেইসময় কেন্দ্রীয় সরকারের নোটবন্দির সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে একটি আরটিআই-এ। মোদীর এই সিদ্ধান্ত যে কালো টাকা বাতিলে কার্যকরী পদক্ষেপ নয় সে কথাও সরকারকে জানিয়েছিল ব্যাঙ্ক। বৃদ্ধির হারে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কাও সরকারকে জানানো হয়েছিল তাদের তরফে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করেননি প্রধানমন্ত্রী। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সম্মতি ছাড়াই ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর রাতে ঘোষণা হয় নোটবন্দির কথা।

চাঞ্চল্যকর এই তথ্যে উঠে আসছ একাধিক প্রশ্ন। তবে কি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ছাড়পত্র ছাড়াই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল? জানা গিয়েছে, ঘোষণার মাত্র আড়াই ঘণ্টা আগেও এদিন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারের নোটবাতিলের বিপক্ষে চারটি কারণও দেখিয়েছিল আরবিআই। পরে অবশ্য জনস্বার্থের কথা ভেবে সম্মতি জানায় ব্যাঙ্ক। আরটিআই  অনুযায়ী, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার বৈঠকে বলা হয়েছিল, নোট বাতিলের সিদ্ধান্তটি ‘প্রশংসনীয় পদক্ষেপ’ হলেও ‘চলতি বছরের জিডিপি’-র ওপর এর বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আরও জানায়, নোটবন্দির খসড়া পেশ করেছিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক তাতে লেখা ছিল, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৫০০ ও ১০০০ হাজার টাকার নোট যথাক্রমে ৭৬ শতাংশ ও ১০৯ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে দেশে৷ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টররা বিরোধিতা করে এও জানিয়েছিলেন ‘আর্থিক বৃদ্ধির যে ৩০ শতাংশ হারে কথা লেখা রয়েছে তা সঠিক, কিন্তু দেশে মুদ্রার বৃদ্ধির হারও স্বাভাবিক৷ কাজেই মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে, তা অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ৷’

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।