কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

বৈশাখীর সাথে বৈঠকে কৈলাস, ফের তৃণমূলে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শোভনকে ফোন তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্বের

নিজস্ব প্রতিনিধি: সপ্তাহ খানেকে ধরে সেই টানটান রাজনৈতিক চিত্রনাট্য এখন প্রায় ক্লাইম্যাক্সে। বাংলায় নির্বাচন সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির যে নেতারা, তাঁদেরই দু’জন বুধবার রাতে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘন্টা দেড়েক বৈঠক করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে এই নিয়ে তিন বার বৈশাখীর সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপি তথা সঙ্ঘের নেতারা। কয়েকদিন আগে দক্ষিণ কলকাতায় বৈশাখীর সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বৈঠক করেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর।

এর আগে গত সোমবার রাতে বিজেপি এবং সঙ্ঘের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক হয়। তার পরেই মঙ্গলবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেনন কলকাতায় আসেন। কৈলাসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওই দিন সন্ধ্যায় বৈশাখীর সঙ্গে ‘কনফিডেনশিয়াল’ বৈঠক করেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছিল। কিন্তু, সেই বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। শোভনের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছিল, খুব শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শোভন-বৈশাখী।

আগামী লোকসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করতে চেয়ে বৈশাখীকে শনিবার সকালে ফোন করেছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছিল, অমিত শাহের নির্দেশেই মুকুল ওই ফোন করেছিলেন। অন্যদিকে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব শোভনকে দলে রাখার পাশাপাশি পুরনো মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে ফের সচেষ্ট হয়েছে। আর এ নিয়ে ইতিমধ্যে শোভনকে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে ফোন করে পুরনো আবেগ ও নানা সেন্টিমেন্ট উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছে তৃণমূল শিবির। স্বয়ং প্রাক্তন মেয়রও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আবেগ ও দুর্বলতার বিষয়টি এখনও অস্বীকার করেন না। বরং উল্টে তিনি প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন, তাঁর রাজনৈতিক উত্থান এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পাওয়ার মূল শক্তি ‘মমতাদি’। বস্তুত এই কারণে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে কোনও স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি শোভন। দিন দিন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে। বিজেপি চাইছে, শোভনকে দলে টেনে তৃণমূলকে জোর ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি গেরুয়া শিবিরকে আরও শক্তিশালী করতে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে শোভনকে কলকাতা বা লাগোয়া শহরতলির কোনও সংসদীয় কেন্দ্রে প্রাক্তন মেয়রকে প্রার্থী করতে চাইছে বিজেপি। যদিও স্বয়ং শোভন এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত যেমন নেননি, তেমনই মন্তব্যও করেননি।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।