কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

বিজেপির ‘অজুর্নকে’ পাশে নিয়ে মুকুলের দাবি, এটা তো সবে ট্রেলার আসল সিনেমা এখনও অনেক বাকি রয়েছে!

নিজস্ব প্রতিনিধি: ব্যারাকপুরে লোকসভার টিকিট নিয়ে কয়েকদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল তৃণমূল নেতৃত্ব বনাম ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের। জল্পনা তৈরী হয়েছিল দলের সাথে মনোমালিন্যের জেরেই বিজেপির দিকে পা ঝুঁকছেন তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনা সত্যি করেই দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দফতরে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং। আর বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানে বিমান হানার প্রমাণ চাওয়ায় ব্যথিত হয়েছেন তিনি। তাই এই অবস্থায় তাঁর পক্ষে আর তৃণমূল করা সম্ভব নয়। তাঁর পাশে বসে তৃণমূলের আর এক প্রাক্তন সেনাপতি মুকুল রায় বললেন, ‘এটা তো সবে ট্রেলার। আসল সিনেমা এখনও অনেক বাকি রয়েছে।’ 

বাংলায় বিপুলভাবে জয়ী হয়ে এ বার বিজোপি আরও অনেক সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়বে বলেও দাবি করেন মুকুল। তিনি এদিন গেরুয়া পতাকা পরিয়ে অর্জুন সিং-কে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কৈলাস বিজয়বর্গীয় অন্যান্য বিক্ষুব্ধ নেতাদের প্রতি আহ্বানের সুরে বললেন, ‘অন্য দলে আরও যাঁরা ভালো নেতা আছেন, তাঁরা আমাদের দলে যোগ দিন। বাংলায় বিজেপির ঝড় উঠেছে।’ চারবারের বিধায়ক কেন তৃণমূল ছাড়লেন, তা বলার জন্য অর্জুনকেই অনুরোধ করেন তিনি। জবাবে অর্জুন বলেন, ‘৩০ বছর মমতাজির সঙ্গে কাজ করেছি। মুকুল যদি কৃষ্ণ হন, তাহলে আমি অর্জুন। মমতার কোনও দেশাত্মবোধ নেই।

 স্বাভাবিকভাবে বলা যায় উত্তর ২৪ পরগনার এই নেতা  বিজেপি’তে যোগদান করার পর তা যে নিঃসন্দেহে বিজেপি’র বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, এখনও পর্যন্ত যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি’তে যোগদান করেছেন, তাঁদের মধ্যে সৌমিত্র খাঁ, বিষ্ণপুরে তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন, অনুপম হাজরা বোলপুরের সাংসদ ছিলেন, লোকসভায় সবারই মেয়াদ ফুরিয়েছে। কিন্তু এরা কেউই সাংগঠনিকভাবে বড়সড় নেতা নন, সেক্ষেত্রে অর্জুন নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম। অর্জুন বিজেপি’তে যাওয়ার ফলে  শুধু ব্যারাকপুর লোকসভা নয়, পার্শ্ববর্তী লোকসভাতে কিছুটা হলেও এর প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।