দেশ প্রথম পাতা

বালাকোটে সব অক্ষত, উপগ্রহ চিত্রে দাবি রয়টার্সের

নিজস্ব প্রতিনিধি— এখনও পর্যন্ত বালাকোটে কতজন জঙ্গি প্রাণ হারিয়েছে তার বিশ্বাসযোগ্য কোনও প্রমাণ কেন্দ্রের তরফে মেলেনি।বিরোধীরা বারবার সুর চড়িয়েছে, ঠিক কতজন মারা গিয়েছে তা নিয়ে। কারণ, সেনার সাফল্যকে সামনে রেখে বিজেপি ভোটের রাজনীতি শুরু করেছে বলে বিরোধী শীর্ষ নেতারা বারবার অভিযোগ করছেন। জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেওয়া নিয়ে খুব একটা মতভেদ নেই। কিন্তু যেভাবে ৪৯ জন ভারতীয় জওয়ানকে পুলওয়ামায় মরতে হল, তা মেনে নিতে পারছে না আমজনতা। তাই দেশের ভেতর থেকে দাবি উঠছে, পাকিস্তানকে উচিত শি‍ক্ষা দিতে হবে। বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সংখ্যা আছে। কেউ বলছে ৩০০ জন মারা গিয়েছে। বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলছেন, কমপক্ষে মারা গিয়েছে ২৫০ জন। এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনও সংবাদমাধ্যমে পাকিস্তানে এয়ার স্ট্রাইকে ঠিক কতজন মারা গিয়েছে সেই সংখ্যা তারা প্রকাশ করতে পারছে না। ফলে রহস্য দানা বাঁধছে। বায়ুসেনার আধিকারিক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কতজন মারা গিয়েছে সেটা গোনা তাদের কাজ নয়। এমনই এক পরিস্থিতিতে একটি উপগ্রহ চিত্র সামনে আসছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে বালাকোটো কোনও জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হয়নি। বালাকোটে পাহাড়ের মাথায় জইশ-মহম্মদের চালানো মাদ্রাসাটি ধ্বংসের কথা বলা হচ্ছে। তার প্রমাণ হিসেবেও একটি উপগ্রহ চিত্র ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যেটি ফোটোশপে বানানো বলে সন্দেহ অনেকের। এর পরে একটি মার্কিন বেসরকারি স্যাটেলাইট অপারেটর ‘প্ল্যানেট ল্যাবস ইনকর্পোরেট’কে দিয়ে বালাকোটের একটি ছবি তোলায় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। মার্চের ৪ তারিখে তোলা হাই রেজোলিউশনের সেই ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, জাবা গ্রামের অদূরে পাহাড়ের মাথায় সেই মাদ্রাসাটি দিব্যি অক্ষত দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার ছাদে কোনও গর্ত নেই, ভাঙনের কোনও চিহ্ন নেই দেওয়ালেও। গত বছর এপ্রিলে সংস্থাটি শেষ বার এই অঞ্চলের যে উপগ্রহ চিত্র তুলেছিল, তার সঙ্গে এখন তোলা ছবিটির কোনও অমিল নেই৷

রয়টার্সের দাবি, কিছু প্রশ্ন-সহ এই ছবি তারা ভারত সরকারের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে ইমেল করে পাঠায়৷ কিন্তু তার পরে দু-তিন দিন কেটে গেলেও কোনও জবাব মেলেনি৷ উপগ্রহ চিত্র পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ মার্কিন প্রযুক্তিবিদ জেফ্রি লিউইস ছবি পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, বোমায় ক্ষয়ক্ষতির কোনও প্রমাণ ছবিতে মিলছে না। ভারত সরকার ১০০০ কেজির বোমা ফেলার যে দাবি করেছে, তা ঠিক হলে এই বাড়িটি এখানে থাকারই কথা নয়। রয়টার্স জানাচ্ছে, তাদের সাংবাদিকেরা পরপর দুবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা পড়ার যে গর্ত দেখেছেন, তা এই পাহাড়ের নীচে কিছুটা সমতল একটি জায়গায়। এ থেকেই প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতীয় বায়ুসেনা হয় নিশানা ভুল করেছে, অথবা ইচ্ছে করেই পাহাড়ের অদূরে বোমা ফেলে দেখিয়েছে, দরকারে মাদ্রাসাও তারা গুড়িয়ে দিতে পারে।

মন্ত্রী সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন, বালাকোটে প্রাণহানি নয়, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে বার্তা দেওয়া। তাই প্রাণহানি হয়নি| বালাকোটে কয়েকশো জঙ্গি মারা যাওয়ার দাবির সারবত্তা নিয়ে। অনেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় নিহত উত্তরপ্রদেশের জওয়ান প্রদীপ কুমার ও রাম ভকিলের পরিবারও জানিয়েছে, সরকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিলে তবেই তাঁরা শান্তি পাবেন। প্রদীপ কুমারের মা। বলেন, “দেশের এতগুলো ছেলে প্রাণ দিল। আর আমরা জঙ্গিদের দেহ পর্যন্ত দেখতে পেলাম না! আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। আমরা চাই জঙ্গিদের মৃতদেহ টিভিতে দেখানো হোক।”

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।