দেশ প্রথম পাতা

বালাকোটে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের চিত্র নিয়ে সংশয়, বিরোধীদের মতোই সরকারের কাছে প্রমাণ চাইছে পুলওয়ামার নিহত জওয়ানের পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা: মোদী সরকার বালাকোট হামলায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটলেও আড়াইশো জঙ্গি মারা গিয়েছে বলে দাবি করছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। মন্ত্রী সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন, বালাকোটে প্রাণহানি নয়,  সরকারের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে বার্তা দেওয়া। তাই প্রাণহানি হয়নি। 

বালাকোটে কয়েকশো জঙ্গি মারা যাওয়ার দাবির সারবত্তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন। বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবারেও দাবি করেছেন, বায়ুসেনার অভিযানে ক্ষয়ক্ষতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মানুষকে দিতে হবে। উগ্র জাতীয়তাবাদের ধুয়ো তুলে বেশি দিন বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বালাকোটে বিমান অভিযানে আদৌ কি কোনও জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে? যত দিন যাচ্ছে, প্রকট হচ্ছে এই প্রশ্ন। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় নিহত উত্তরপ্রদেশের দুই সিআরপি জওয়ানের পরিবারও এই সংশয় জানিয়ে দাবি করেছে— বিমান হামলায় জঙ্গি মৃত্যুর বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিক সরকার।একটি মার্কিন বেসরকারি স্যাটেলাইট অপারেটর ‘প্ল্যানেট ল্যাবস ইনকর্পোরেট’-কে দিয়ে বালাকোটের একটি ছবি তোলায় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। মার্চের ৪ তারিখে তোলা হাই রেজ়োলিউশনের সেই ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, জাবা গ্রামের অদূরে পাহাড়ের মাথায় সেই মাদ্রাসাটি দিব্যি অক্ষত দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার ছাদে কোনও গর্ত নেই, ভাঙনের কোনও চিহ্ন নেই দেওয়ালেও।ভারত সরকার ১০০০ কেজির বোমা ফেলার যে দাবি করেছে, তা ঠিক হলে এই বাড়িটি এখানে থাকারই কথা নয়। রয়টার্স জানাচ্ছে— তাদের সাংবাদিকেরা পরপর দু’বার ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা পড়ার যে গর্ত দেখেছেন, তা এই পাহাড়ের নীচে কিছুটা সমতল একটি জায়গায়। এ থেকেই প্রশ্ন উঠেছে— ভারতীয় বায়ুসেনা হয় নিশানা ভুল করেছে, অথবা ইচ্ছে করেই পাহাড়ের অদূরে বোমা ফেলে দেখিয়েছে, দরকারে মাদ্রাসাও তারা গুঁড়িয়ে দিতে পারে।কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় নিহত উত্তরপ্রদেশের জওয়ান প্রদীপ কুমার ও রাম ভকিলের পরিবারও জানিয়েছে, সরকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিলে তবেই তাঁরা শান্তি পাবেন। প্রদীপ কুমারের মা বলেন, ‘‘দেশের এতগুলো ছেলে প্রাণ দিল। আর আমরা জঙ্গিদের দেহ পর্যন্ত দেখতে পেলাম না! আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। আমরা চাই জঙ্গিদের মৃতদেহ টিভিতে দেখানো হোক।’’

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।