দেশ প্রথম পাতা

বালাকোটে ক্ষতিগ্রস্ত জইশ-এর ক্যাম্প উড়িয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা, স্বীকার মাসুদ আজ়হারের ভাইয়ের মৌলানা অমর

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডের বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের ট্রেনিং ক্যাম্প। মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানের কার্পেট বম্বিংয়ে কতটা ক্ষতি হয়েছিল জইশ শিবিরের, তা নিয়ে গত মঙ্গলবার থেকেই চলছে চাপানউতোর। দাবি, পাল্টা দাবি, গণমাধ্যমগুলির নানা পোস্ট ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতিতে এ বার জইশ জঙ্গি শিবির ধ্বংসের কথা মেনে নিল জইশ-মাথা মৌলানা মাসুদ আজহারের ছোট ভাই মৌলানা অমর। ভারতীয় সেনার দাবি যে মিথ্যে নয় ভিডিও বার্তায় সেটা স্বীকার করেছে অমর।একটি অডিয়ো বার্তায় একথা স্বীকার করল মাসুদ আজ়হারের ভাই মৌলানা আম্মার।

সোশাল মিডিয়ায় একটি অডিয়ো বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। গলার স্বরটি মৌলানা আম্মার বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সে স্বীকার করেছে, ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান জইশের “মারকাজ়”-এ (ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র) বোমা ফেলে। কোনও অফিসিয়াল এজ়েন্সির প্রধান কার্যালয়ের পরিবর্তে জেহাদ শিক্ষার একটি কেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে। ভারতের অভিযান প্রসঙ্গে জইশ প্রধানের ভাই বলেছে, “ভারতীয় যুদ্ধবিমান কোনও এজেন্সির গোপন আস্তানায় আক্রমণ চালায়নি। তারা অফিসিয়াল এজ়েন্সির প্রধান কার্যালয়ে বোমা ফেলেনি। একটি ধর্মীয় কেন্দ্রে বোমা ফেলা হয়েছে যেখানে কাশ্মীরের মানুষের সাহায্যের জন্য জেহাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।”

ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রতে কী শেখানো হত তা নিয়েও মুখ খুলেছে মৌলানা আম্মার। তার বক্তব্য, সেখানে কাশ্মীরের সমস্যাকে নিজেদের সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করার শিক্ষা দেওয়া হত। আর সেই কেন্দ্রেই অভিযান চালানো যুদ্ধের ডাক দেওয়ার সামিল। সে বলেছে, “আজ শত্রুপক্ষ পাহাড় টপকে আমাদের জমিতে ঢুকেছে। আর আমাদের ধর্মীয় কেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছে। এটা যুদ্ধের ঘোষণা।” জইশের ট্রেনিং ক্যাম্পে অভিযান চালানোয় ভারতকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে আজ়হারের ভাই। তার কথায়, “এটা কোনও এজেন্সির জিহাদ নয়। নিজেদের ভূ-খণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের আক্রমণ করেছে। তার জেরে নিশ্চিত করেছে, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদ শুরু করব।”

 

মাসুদের ছোট ভাই অমরকে এও বলতে শোনা যায় যে, জইশ প্রশিক্ষকদের পাশাপাশি আইএসআই কলোনেল সালিম কোয়ারি এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞ মৌলানা ময়েনেরও মৃত্যু হয়েছে এই এয়ার স্ট্রাইকে।  জঙ্গি শিবির ধ্বংসের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনার কম্যান্ডার অভিনন্দর বর্তমানকে ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নিন্দাও শোনা গেছে অমরের মুখে।

মঙ্গলবার ভোর রাতে পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ ই মহম্মদের সব থেকে বড় জঙ্গি শিবির বিমান গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। তার পর চব্বিশ ঘন্টা না কাটতেই ঘরোয়া রাজনীতিতে অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন, বালাকোটে অপারেশনের প্রমাণ দিচ্ছে না কেন মোদী সরকার? ঘটনাচক্রে তার পরই এ দিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিন বাহিনীর কর্তারা। এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুর বলেন, মঙ্গলবার সন্ত্রাসবাদ দমনে পদক্ষেপ করেছিল নয়াদিল্লি। যেখানে আঘাত হানার লক্ষ্য ছিল ঠিক সেখানেই আঘাত করা হয়েছে। জঙ্গি শিবিরগুলির যতটা ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল সাফল্যের সঙ্গে ততটাই করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। উল্টো দিকে পাকিস্তানের দাবি ছিল, ভারতীয় বোমায় দু’একটা গাছ ও ফসল ছাড়া কিছুই সেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।