জেলা প্রথম পাতা

পাহাড়ে এখনও প্রার্থী খুঁজতে ব্যস্ত বিজেপি! আগেভাগেই ‘রাজু বিস্তারের’ নাম ঘোষণা করে দিল মোর্চা-জিএনএলএফ জোট

নিজস্ব প্রতিনিধি: শৈলশহরের গায়েও লেগেছে শহরের রাজনীতি। দেশের লোকসভা নির্বাচনের আঁচ যেন এড়িয়ে যেতে পারছে না দার্জিলিং। বারবার পরিবর্তন হয় মরশুম তেমনই প্রতি মুহুর্তেই যেন পথ পরিবর্তন করছে পাহাড়ের রাজনীতিতে। বিমল গুরুঙ্গ এখন অতীত। পাহাড়ের রাস কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিনয় তামাংয়ের হাতে। কিন্তু তাতে কি গোপন ডেরা থেকেই পাহাড়ের রাজনীতিতে পুনরায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিমল গুরঙ্গ। দার্জিলিংয়ের এবার তৃণমূলের প্রার্থী অমর সিং রাই। আর বিজেপি এখনও অবধি তাদের প্রার্থীর নাম ঠিক করে উঠতে পারে নি।  যখন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিংয়ের মোর্চা বিধায়ক অমর সিংহ রাই-এর নাম দার্জিলিং লোকসভায় তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছেন।

তারপর থেকেই  পাহাড়ের রাজনীতিতে ঘটছে একের পর এক সমীকরণের পরিবর্তন, যা পাহাড়ের খামখেয়ালি আবহাওয়াকেও টেক্কা দিচ্ছে।বর্তমানে পাহাড়ের ক্ষমতাসীন বিনয় তামাংপন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রথম সারির নেতাকে পাহাড়ের মানুষ হাত উপুড় করে ভোট দেবেন এমনটাই ছিল শাসকদলের হিসাব। আর সেই হিসেব কষেই পাহাড়ের দায়িত্বে থাকা শাসক দলের প্রথম সারির নেতাদের মুখে ছিল চওড়া হাসি ।কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই আচমকা তৃণমূলের ‘নিশ্চিত জয়’-এর অঙ্কটা বদলে গেল। সুবাস ঘিসিংয়ের গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (জিএনলএফ) এবং বিমল গুরুঙ্গপন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (জিজেএম) অতীতের সমস্ত তিক্ততা-শত্রুতা ভুলে হাতে হাত মেলানোয়। যে বিমল গুরুঙ্গ সুবাস ঘিসিংকে পাহাড় ছাড়া করেছিলেন, সুভাসের স্ত্রীর মরদেহ পাহাড়ে উঠতে দেননি, সেই বিমলের সঙ্গে হাত মেলাবেন সুবাসের ছেলে মন ঘিসিং— এমনটা পাহাড়ের মানুষের কাছেও একটা বড় চমক।যদিও দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি এবং রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব বলছেন, “কে কোথায় জোট করল তা নিয়ে তৃণমূল আদৌ চিন্তিত নয়। তবে জিএনএলএফেরও মনে রাখা উচিত, ২০০৭ সালে অগ্নিগর্ভ পাহাড়ে বিমল গুরুঙ্গ কী ভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাঁদের সঙ্গে।”পরিবর্তিত সমীকরণে যখন ফের একবার পাহাড়ের আসন ধরে রাখার জোরালো আশার আলো দেখা দিচ্ছে গেরুয়া শিবিরের সামনে, তখন নিজেদের প্রার্থী বাছাই করতেই নাজেহাল দশা তাঁদের। প্রার্থী বাছাই নিয়ে পাহাড়ের জোট শরিকদের সঙ্গে চলছে রীতিমত দড়ি টানাটানি।

 

meeting

দিল্লিতে শিবির করে থাকা জিএনএলএফের এক শীর্ষ নেতা রবিবার বলেন, ‘‘সুরেন্দ্র অহলুওয়ালিয়ার নাম বিজেপির তরফে প্রস্তাব করা হলে আমরা প্রথমেই বিরোধিতা করি। কারণ তিনি পাহাড়ে সাংসদ হিসাবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন।” অহলুওয়ালিয়া নিয়ে জিএনএলএফের মত বিরোধিতা করেছেন বিমল পন্থী মোর্চা নেতারাও। আর সেখান থেকেই নাম উঠে আসে সত্যপাল রাওয়াত বা সত্যপাল মহারাজের। উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকারের পর্যটনমন্ত্রী সত্যপাল মহারাজের সরাসরি পাহাড়ের কোনও যোগ না থাকলেও, একজন ধর্মীয় গুরু হিসাবে তিনি পাহাড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গত ডিসেম্বরেও তিনি পাহাড়ে একাধিক অনুষ্ঠান করেন। সেখানকার উপচে পরা ভিড় তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকেই শিলমোহর দেয়। সেই সঙ্গে সমতলের অবাঙালি ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে তাঁর প্রভাব। মোর্চা সূত্রের খবর, সেখানেও সমস্যা তৈরি হয়, কারণ সত্যপাল মহারাজ নিজেই আগ্রহী নন পাহাড়ে প্রার্থী হতে। ফলে খোঁজ শুরু হয় তৃতীয় নামের। সূত্রের খবর জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বা এবং মন ঘিসিং প্রথম সারির মোর্চা নেতাদের সঙ্গে শিবির করে রয়েছেন নয়া দিল্লিতে।

সেখানে পর পর বৈঠকে উঠে আসে রাজু বিস্তার নাম।বিজেপি সরকারি ভাবে দার্জিলিংযের প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও, রবিবার সন্ধ্যায় বিমল পন্থী মোর্চা তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাজুর নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।   

 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।