জেলা প্রথম পাতা

পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি গুড়িয়ে দিয়েছে ভারত! তবু ধন্দে বিশ্বের তাবড় সংবাদমাধ্যম

নিজস্ব সংবাদদাতা: ১৪ই ফেব্রুয়ারী পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় শহিদ হয়েছেন দেশের ৪৪ জন জওয়ান। পাকিস্তানকে উচিত জবাব দেওয়ার দাবি ওঠে দেশের সর্বত্র। ১২ দিনের মাথায় ২৬শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় বায়ুসেনা। পাকিস্তানের বালাকোটে মঙ্গলবারের বিমান অভিযানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে অন্তত ৩৫০ জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি পাকিস্তান মানেনি। নামী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিও কার্যত সে দাবি স্বীকার করছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলছে ৩৫০ জঙ্গির হিসাব কি করে জানা গেল।

সংবাদমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিদের কালই বালাকোটে নিয়ে যান পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। ইসলামাবাদ থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক দল সাংবাদিককে বুধবার বালাকোটের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুই পশ্চিমি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, বালাকোটে যেখানে ভারতীয় বিমান বোমা ফেলেছে, সেখানে সত্যিই জঙ্গি ঘাঁটি ছিল। কিন্তু ২০০৫-এ ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের পরে বিদেশি ত্রাণ সংস্থাগুলি ওই অঞ্চলে যাতায়াত শুরু করে। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়েই জঙ্গিরা বালাকোটের এই এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও সরে যায়। সুতরাং ভারতীয় বোমায় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম বলে তাদের ধারণা।ওয়াশিংটন পোস্ট’-ও জানিয়েছে, ‘স্থানীয় থানার পুলিশ ও বাসিন্দারা নাম গোপনের শর্তে জানিয়েছেন, বালাকোট শহরের কয়েক কিলোমিটার বাইরে একটি পাহাড়ি এলাকায় ভারতীয় বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে মানুষ মারা যাওয়ার কোনও চিহ্ন তাঁরা দেখেননি।ভারতীয় বিমান সম্ভবত নিশানা ভুল করেছে।সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, ‘ভারতীয় বিমান বোমা ফেলার পরে সে দেশে উৎসব পালন করা হচ্ছে। কিন্তু এই হামলায় বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ স্থানীয় গ্রামবাসীরা এই আমাদের এবং অন্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিকে জানিয়েছেন, রাতে চার-পাঁচটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ তাঁরা শুনেছেন। তাতে কয়েকটি বাড়িতে ফাটল ধরেছে। এক জন সামান্য জখমও হয়েছেন। কিন্তু ফাঁকা মাঠে বোমাগুলি পড়ায় বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।