জেলা প্রথম পাতা

পরীক্ষা শেষে পরীক্ষাকেন্দ্রে মায়ের সাথে আর দেখা হল না মেয়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রতিদিন মেয়েকে স্কুলের বাসে তুলে দিয়ে পেছনে পেছনে পরীক্ষাকেন্দ্রে মেয়ের সাথে দেখা করতে যেতেন মা ও বাবা। প্রতিদিন পরীক্ষার শেষে মায়ের সাথে দেখা হত মেয়ের। কিন্তু মঙ্গলবার আর মায়ের সাথে দেখা হল না মেয়ের। কারন মায়ের পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে।

বাড়ি থেকে হাঁসি মুখে মেয়েকে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বাসে তুলে দেন মা। পরে মেয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে স্বামীর মোটর বাইকে চড়ে রওনা দেন গৃহবধূ। কথা ছিল মেয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থাকবেন মা ও বাবা। কিন্তু তা আর হল না।পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে মায়ের প্রাণ। মেয়ে যখন পরীক্ষাকেন্দ্রে মগ্ন উচ্চমাধ্যমিক দেওয়ার জন্য সেই সময় তাঁর মায়ের নিথর দেহটি পড়ে রইল হাসপাতালের এক কোনায়। যার বিন্দুবিসর্গও জানতে পারল না ছাত্রীটি।মঙ্গলবার মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। মৃত মহিলার নাম ঝর্ণা পাত্র (৪৩)। তাঁর বাড়ি কাঁথি থানার সাতমাইলের পশ্চিম মানিকপুর গ্রামে।

তাঁর মেয়ে জুখি পাএ বর্তমানে সাতমাইল হাইস্কুলের ছাত্রী। এবং কাঁথি হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ে তাঁর পরীক্ষার সিট পড়েছে। মেয়েটির বাবা বিদ্যুৎ পাত্র জানিয়েছেন, অন্য দিনের মতোই মেয়েকে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য স্কুল গাড়িতে তুলে দেন তাঁরা।

এরপর একটি বাইকে স্ত্রীকে পেছনে চাপিয়ে মেয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিদ্যুৎবাবু। পথে এগরা কাঁথি সড়কের রেল ক্রসিংয়ের কাছে এসে মোটর বাইক নিয়ে উলটে যান বিদ্যুৎবাবু। এই ঘটনায় পেছনে থাকা স্ত্রীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

তাঁকে উদ্ধার করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই ঝর্না পাত্রের মৃত্যু হয়। তবে এই ঘটনার বিষয়ে বিন্দুবিসর্গও জানে না মেয়ে জুখি। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার পরেই চরম সত্যির মুখোমুখি হতে হয় মেয়েকে। মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মেয়ে।

 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।