জেলা প্রথম পাতা

নীরব বিয়েতে স্মরণীয় মমতার রূপশ্রী প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিনিধি : চোখের ইশারায় দুজনের মন দেওয়া নেওয়া।  প্রথম দেখাতেই একে অপরকে ভালো লেগে যায়। পরে দুইবাড়ির অনুমতি ক্রমে বিয়ের আয়োজন করা হয়। তবে শুক্রবার সন্ধেয় যুগলের বিয়েকে ঘিরে বেশ হইচই পড়ল দিঘার খাদালগোবরা গ্রামে। বর সত্যজিৎ মাইতি বিয়ে করতে এসেছেন কাঁথির কেশুরকুন্দা থেকে।  বর এবং বরযাত্রী যখন খাদালগোবরা পৌঁছলেন তখন মহা ধুমধাম। ফাটল বাজি, নাচা-গানা। খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।এরপর ছাদনা তলায় বসে শুভদৃষ্টি, সাত পাকে ঘোরা- বিয়ের যাবতীয় আচার অনুষ্ঠান সবই সম্পন্ন হয় সুষ্ঠভাবে। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। মনে মনে ভাবতে থাকে  বর তো কই উচ্চারণ করল না বিয়ের মন্ত্র।পুরোহিতের মতো তাঁকে তো কই দেখা গেল মুখ বুনতে। কোথাও যেন রহস্য দানা বাঁধতে থাকে এমন আনন্দের আবহেও। বিয়েতে নিমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে কানাঘুষো চলে সারাক্ষণ। তবে, বরও কি বোবা?

বিয়ের মন্ডপে উপস্থিত রামনগর ১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক আশিস রায়ের এমন অবাক জিজ্ঞাসায়।অথিতিদের মাঝে বসে থাকা কনের বাবা-মায়ের থেকে উত্তর আসে , হ্যাঁ। বরও মুক ও বধির! 

মেয়ের বিয়ের জন্য রূপশ্রী প্রকল্পের আবেদন ব্লক প্রশাসনে জানিয়ে ছিলেন মৌসুমীর মাছ বিক্রেতা বাবা দিনবন্ধ দাস। রূপশ্রী প্রকল্পের সেই টাকা উপহার স্বরূপ হাতে নিয়ে সন্ধেয় বিয়ের আসরে হাজির হয়েছিলেন রামনগর ১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মহাপাত্র।সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরাও।প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা নববধূর মৌসুমীর হাতে তুলে দেন বিডিও-সভাপতি। এরপরই পাত্র সত্যজিতের নীরব মুখ দেখে অবাক বিডিও জিজ্ঞাসা করে বসেন, বরও কী …

পরে আসল সত্যটা প্রকাশ পায় মৌসুমীর  মতো সত্যজিৎও বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। সম্বন্ধের বিয়ে হল তাঁদের। তবে উভয়ই বেশ পরিচিত ছিলেন কাঁথির মুক ও বধিরদের স্কুলে পড়ার সময়। ১ ক্লাসের ব্যবধান ছিল তাঁদের। ওই স্কুলের এক শিক্ষকের মধ্যস্থতায় এই বিয়েতে রাজি হয়ে যান উভয়ের বাড়ির লোকেরা।

 অবাক হলেও এমন নীরব বিয়ের সাক্ষী হতে পেরে বেশ খুশি খাদালগোবরার বাসিন্দারা।খুশি বিডিও, সভাপতিরাও।

বিডিও আশিস রায় বললেন”এমন বিয়ে সত্যিই এর আগে দেখিনি, তবে ওদের সম্পর্কের রসায়নে অভিভূত।এই বিয়েতে রূপশ্রী প্রকল্পের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপহার তুলে দিতে পেরে খুশি আমরাও।”পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মহাপাত্র বলেন,” বিয়েটা বেশ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর এমন বিয়ের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের রূপশ্রী প্রকল্প উপহার স্বরূপ তুলে দিতে পেরে ভীষণ খুশি আমিও।তাদের দাম্পত্য জীবন মধুর হোক এই কামনা করি।  

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।