Uncategorized

নিরাপত্তা বাড়ছে ১৭ নেতা-মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি— নদিয়ার বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনার পর ঢেলে সাজানো হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে কোন কোন নেতার ওপর হামলার সম্ভাবনা আছে তার একটা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৭ নেতা-মন্ত্রীর নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। যাঁদের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে, তাঁরা যেখানেই যাবেন পাবেন পুলিশি নিরাপত্তা, এসকর্ট ইত্যাদিএছাড়া, আগে থেকেই যে সব নেতামন্ত্রী নিরাপত্তা পেতেন, তাঁদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা আগের মতো বহাল থাকছে।

এখন রাজ্যে জেড-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মেয়র থাকাকালীন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও একই নিরাপত্তা পেতেন। এখন আর তা দেওয়া হয় নাজেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম এবং অরূপ বিশ্বাস। তাঁদের নিরাপত্তা যেমন ছিল তেমনই আছে। আগে-পিছনে পাইলট-এসকর্ট গাড়ির সঙ্গে সবসময়ের জন্য চারজন নিরাপত্তা রক্ষী এঁদের সঙ্গে থাকে।

কিন্তু সত্যজিৎ বিশ্বাস খুন হয়ে যাওয়ার পর তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, নদিয়ায় কৃষ্ণনগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অসীমকুমার সাহা, তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত, রানাঘাট-পশ্চিমের বিধায়ক শঙ্কর সিংহের নিরাপত্তা বেড়েছে। নিরাপত্তা বেড়েছে ক্যানিং-পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লা, দক্ষিণ কলকাতা যুব তৃণমূল সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, উত্তর কলকাতা যুব তৃণমূল সভাপতি জীবন সাহা, মুর্শিদাবাদের যুব তৃণমূল সভাপতি আমিরুল ইসলাম, বর্ধমানের যুব তৃণমূল সভাপতি সুভাষ মণ্ডল,নানুরের বিধায়ক তথা বীরভূমের যুব সভাপতি গদাধর হাজরারও। এ ছাড়াও অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা স্তর জেড থেকে বাড়িয়ে জেড উইথ লিড সিকিউরিটি মোবাইল স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। যার অর্থ, অনুব্রত যেখানেই যাবেন, তার আগে পুলিশের গাড়ি পরিস্থিতি যাচাই করতে করতে যাবে। জেড ক্যাটাগরি পেয়েছেন আরও তিন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। নিরাপত্তা পাবেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল সভাপতি মোহন শর্মা, সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া মৌসম নূর এবং ডেরেক ওব্রায়েন। জীবনের ঝুঁকির কথা ভেবে এক সাংবাদিককেও সর্বক্ষণের নিরাপত্তা রক্ষী দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা ডিরেক্টরেটের কর্তারা। কেন্দ্রীয় ভাবে তৈরি এই তালিকার বাইরেও প্রতি জেলার পুলিশ সুপারদের স্থানীয় নেতাদের সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সব জেলাতেই দেহরক্ষী পেয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের কয়েকশো নেতা।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।