আন্তর্জাতিক দেশ প্রথম পাতা

দেশের দায়িত্বে অবিচল অভিনন্দন! বন্দি হয়ে খেয়ে ফেলেছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর যাবতীয় দরকারি ও গোপন নথিও

নিজস্ব প্রতিনিধি : পায়ের নীচের যে মাটি তা নিজের দেশের নয়। সামনে দাঁড়িয়ে ভিনদেশি সেনা, পুলিশ , সাধারণ মানুষ। কাজেই তাঁদের পাল্স বোঝা দুষ্কর। তবু তিনি অকুতোভয়। অবিচল। তিনি, পাক ভূমিতে ভেঙে পড়া মিগ ২১ বাইসন যুদ্ধবিমানের চালক উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান।

 ইতিমধ্যেই তাঁকে ফেরত দেওয়ার বার্তা দিয়েছে পাক প্রশাসন। শুক্রবারই ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার কথা অভিনন্দনের। কিন্তু ভিন দেশে এই দু’দিন ঠিক কেমন কাটল তাঁর?

পাকিস্তানের দৈনিক ‘ডন’-এর সূত্রে খবর, বিরোধীদের ঠেকাতে শূন্যে গুলি ছোঁড়া, কপ্টারকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা কিছুই বাদ দেননি অভিনন্দন। এমনকি, ধরা পড়ার আগেও দু’-দু’টো পাক কপ্টারকে গুলি করে নামান অভিনন্দন। শুধু তা-ই নয়,  পাক জনতার হাতে বন্দি হওয়ার পর খেয়ে ফেলেছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর যাবতীয় দরকারি ও গোপন নথিও! যাতে হন্যে হয়ে খুঁজেও তাঁর কাছ থেকে তেমন কোনও দরকারি তথ্য না পায় বিরোধীরা।

শরীর থেকে ঝরে পড়া রক্ত, আমজনতার পাথরবৃষ্টি— কোনও কিছুই কী ভাবে নিজের দেশের নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর কর্তব্যের পথ থেকে সরাতে পারল না এই উইং কমান্ডারকে, তা ভেবে অবাক পাক সংবাদমাধ্যমও।

বুধবার মিগ ২১ থেকে পিস্তল-সহ ইজেক্ট হওয়ার পর এটা কোন দেশ তা জানতে চান তিনি। পাক জনতা তত ক্ষণে ঘিরে ফেলেছে তাঁকে। চোখও বাঁধা। তাঁদেরই মাঝে দাঁড়িয়ে বার বার জানতে চাইছিলেন অভিনন্দন, এটা কোন দেশ? ভারত না পাকিস্তান? ভারতের বায়ুসেনার পেট থেকে কথা বার করতে তখন তাঁকে আশ্বস্ত করা হয় তিনি ভারতের মাটিতেই আছেন বলে। কিন্তু পোড় খাওয়া কমান্ডার অভিনন্দন বোধ হয় তত ক্ষণে বিপদের গন্ধ পেয়ে গিয়েছেন। দেশাত্মবোধক কিছু স্লোগানের পরেই সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘এটি ভারতের কোন জায়গা?’

এর পর উত্তর আসে ‘এটি কিলান।’ অভিনন্দন তখন ভিড়ের উদ্দেশে জানান, তাঁর কোমর ভেঙে যাচ্ছে যন্ত্রণায়, মিনতি করেন, ‘একটু জল হবে?’

 

 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।