প্রথম পাতা

দেব ভালো ছেলে, ওঁর তৃণমূলে প্রার্থী হওয়া ঠিক হয়নি: ভারতী

নিজস্ব প্রতিনিধি— বিতর্ক থেকে সবসময় দূরে থাকতে চান দেব। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সেকারণে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই তারকা সাংসদ। ফের ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দীপক অধিকারী ওরফে দেব। সৌজন্যের নজির এর আগেও তিনি বহুবার গড়েছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। দেব মাঝেমধ্যে ঘাটাল লোকসভা এলাকায় যান, কিন্তু তাঁর হয়ে কাজকর্মের পুরোটাই দেখভাল করেন দলীয় নেতারা। সবধরনের মানুষের কাছে দেবের ইমেজ যথেষ্টই ভালো। কিন্তু যে নেতারা দেবের হয়ে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে কাজ দেখভাল করতেন তাদের অনেককে নিয়ে ইতিমধ্যেই বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ঘাটাল এবং ডেবরা বিধানসভার বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে যথেষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সেই ক্ষোভ ভোটবাক্সে দেবের বিরুদ্ধে যায় কিনা তা সময়ই বলবে। তবে, দেব যে অনেক এগিয়ে, তা বলার অপে‍ক্ষা রাখে না। কারণ, ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে দেব যথেষ্টই জনপ্রিয়।

এদিকে, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর ফেসবুকে দেব লেখেন, ‘বিজেপি প্রার্থী শ্রীমতী ভারতী ঘোষকে শুভেচ্ছা। উনি আমাদের জেলার এসপি ছিলেন, ঘাটালে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কাজে সাহায্যও করেছেন। জেতা-হারা পরের কথা, আমরা সবাই মিলে আগামী দিনে ঘাটালে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাব’।আসলে দেব এমনই। কোনও ঝগড়াঝাটি চান না। বিতর্ক চান না। শুধু চান যার যেটা কাজ, সেটা যেন তিনি মন দিয়ে করেন। সেকারণে যখন দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় দাঁড়িয়ে দেবের এই সৌজন্য বাংলার রাজনীতিতে নতুন দিশা দেখাবে, এমনটা আশা করাই যেতে পারে।

প্রার্থী ভারতী ঘোষকে নিয়ে বিতর্ক কম নয়। তিনি ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশসুপার ছিলেন। রাজ্য সরকারের অনেক উন্নয়নের কাজে তিনি শামিল হয়েছিলেন। দেব তাঁর শুভেচ্ছার মাধ্যমে ভারতী দেবীর অতীতটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। তবে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে নয়, একদম‌ সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গিতে। যদিও অন্য অংশের ব্যাখ্যা, বিপক্ষের প্রতি সৌজন্য দেবের ‘ট্রেডমার্ক’। সৌজন্য ফিরিয়েছেন ভারতীও। তাঁর মন্তব্য, “ও (দেব) ভাল ছেলে, ভাল অভিনেতা। আমার ভাইয়ের মতো। তবে এই দলে ওঁর দাঁড়ানো উচিত হয়নি।”

কেন ভারতী বিজেপি’র প্রার্থী?

বিজেপির ব্যাখ্যা, ঘাটাল লোকসভা এলাকা ভারতী হাতের তালুর মতো চেনেন। তাঁর যেমন নিজস্ব ভাবমূর্তি রয়েছে তেমনই ‘নেটওয়ার্ক’ এখনও শক্তিশালী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “এখানে যিনি তৃণমূল দলটা চালাতেন, সেই ভারতী ঘোষ এখন বিজেপি নেত্রী।’ আসলে দিলীপবাবুর এই ব্যাখ্যা উঠে এসেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় রাজনীতি করার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। তিনি খড়্গপুরের বিধায়ক হয়েছেন, কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা জ্ঞান সিং সোহন পালকে হারিয়ে। স্বাভাবিকভাবে দিলীপবাবুর মনে হয়েছে, ভারতী ঘোষ জেলায় এসপি থাকাকালীন তিনি তৃণমূলের হয়েই কাজ করেছেন। দিলীপবাবু অধিকাংশ সময়ও তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ভারতী দেবীর বিরুদ্ধে। সেই ভারতীয় দেবী এখন দিলীপবাবুর সঙ্গে পাশের লোকসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনীতি সম্ভাবনার মঞ্চ। এখানে আজ যে শত্রু, কাল সে মিত্র। ফলে ভারতীর বিজেপি প্রার্থী হওয়াতে আপাতত নতুন কোনও চমক নেই। যদিও তৃণমূলের যুক্তি, এমন এক জনকে প্রার্থী করা হয়েছে যিনি নিরাপরাধ প্রমাণিত হননি। তার উপর যেখানে গোলমালের শুরু, সেই ঘাটালেই ভারতীকে প্রার্থী করা হয়েছে। এ সব বিজেপির বিপক্ষে যাবে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘‘উনি (ভারতী) প্রার্থী হওয়ার আমাদের সুবিধে হল। বিজেপির বহু কর্মী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।” দিলীপের পাল্টা বক্তব্য, “ভারতীদেবী দাপুটে পুলিশ সুপার ছিলেন। ভোটেও দাপটের সঙ্গেই জিতবেন। আমরা ওঁকে জেতানো‌টা চ্যালেঞ্জ  হিসাবেই নিচ্ছি।”

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।