কলকাতা প্রথম পাতা

দিল্লি থেকে ছুটে এসেছেন ‘শাহের’ দূত! মধ্যরাতেও বিজেপির বৈঠকে আলোচনা সেই ‘শোভন-বৈশাখীকে’ নিয়েই

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের তৃণমূলকে টেক্কা দিতে ঘুটি সাজাচ্ছে বিজেপি। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের টার্গেট ক্রমেই বেড়ে চলেছে রাজ্যের বঙ্গ নেতাদের ওপর। রাজ্যের ২২টি আসনে জেতার টার্গেট নিয়ে ময়দানে নামতে চলেছে বঙ্গ বিজেপির নেতারা। কিন্তু প্রার্থী বাছাই থেকেই তৃণমূলকে চমক দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তবে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় সেরা চমক হতে পারে প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এত দিন জল্পনা ছিল শুধু শোভনবাবুকে নিয়ে, এ বার জল্পনার কেন্দ্রে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁকে সরাসরি লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিল বিজেপি।সেইমত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপির অন্দরে। আধ ঘণ্টার জন্য বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আড়াই ঘণ্টা গড়িয়ে সে বৈঠক শেষ হল মধ্যরাতে। আরএসএস এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সেই বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে সেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সূচি ভেঙে কলকাতায় চলে এসেছেন অমিত শাহের দূত দলের কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেনন। শুধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় নন, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও নিজেদের দলে টানতে মরিয়া চেষ্টা চালাছে বিজেপি নেতৃত্ব।সেই নিয়ে জল্পনাও শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। জানা গিয়েছে, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের নির্দেশেই মুকুল রায় লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ফোন করেছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সোমবার রাতে বিজেপি তথা সঙ্ঘের সঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাবার্তা আরও বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

সোমবার রাতে যে বৈঠক হয়েছে, তাতে সঙ্ঘ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।  বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য কোনও দলীয় কার্যালয়ে বা কোনও বিজেপি নেতার বাড়িতে যাননি। দক্ষিণ কলকাতায় বৈশাখীর পছন্দমতো একটি জায়গায় ওই বৈঠক হয়েছে বলে খবর। আধ ঘণ্টার মতো বৈঠক হবে বলে কথা হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় শুরু হওয়া বৈঠক গড়িয়ে যায় রাত ১১টা পর্যন্ত।বিজেপি সূত্রের খবর, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ বারের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে সোমবার রাতের বৈঠকে। শুধু সেটুকুই অবশ্য নয়, বৈশাখী ঠিক কী ভাবে বিজেপির কাজে লাগতে পারেন, তিনি দলে যোগ দিলে কী ধরনের দায়িত্ব তাঁকে পালন করতে হতে পারে— সে সব বিষয়েও কথা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মেয়র ও মন্ত্রীপদে শোভন ইস্তফা দেওয়ার পরে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাঁর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে সর্বভারতীয় নেতৃত্বের ধমক খেয়েছিলেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা যায়। পরে দিলীপ নিজের মন্তব্য সংশোধন করে নেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম লালও কলকাতায় এসে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। এ বার নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে ততই বাড়ছে বিজেপির তৎপরতা।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।