প্রথম পাতা

দলের ডাক্তারি করতে হবে না: বক্সি

নিজস্ব প্রতিনিধি— রাস্তাঘাটে দল নিয়ে আলোচনা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। বুধবার ডেবরায় ঘাটাল লোকসভা আসনের রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনে তিনি বলেন, চায়ের দোকানে, পানের দোকানে, রাস্তায় চলতে-ফিরতে কিছু কর্মী ওই জায়গাটা ‘নরম’, ওই জায়গাটা ‘শক্ত’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁদের বলি দলকে সুস্থ সবল না করতে পারলে এই ধরনের ডাক্তারি বন্ধ করুন। দলকে মজবুত করুন। ডেরায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচিতি গোষ্ঠী লড়াইয়ের জন্য এক মেরুতে বিবেক মুখার্জি, অলক আচার্য, অন্য মেরুতে রতন দে, সেলিনা হোসেনরা। মুখে মিলনের কথা বললেও লড়াইয়ে যে ফাঁক থাকছে, সেকথা উপলব্ধি করেই মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মাটি চেনা সুব্রত বক্সি বলেন, ব্লক থেকে বুথস্তর পর্যন্ত যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরা সংঘবদ্ধভাবে চলবেন। মতের অমিল থাকবেই। রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘যত মত তত পথ’। কিন্তু বাস্তবে কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীককে ঘরে ঘরে নিয়ে যান। আপনি অসম্মানিত বোধ করলেও কিছু যায়-আসে না কারণ এটাই রাজনৈতিক দলের একজন কর্মীর দায়িত্ব। কিন্তু মনে রাখবেন দল যেন অসম্মানিত না হয়। দল ক্ষমতায় আসার পরেই ডেবরায় নেতাদের চালচলনও বদলে গেছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি, বাড়ি ছাড়া থাকতে পারেন না, ঘুরতে পারেন না। কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ কমছে সমানুপাতিক হারে। নেতাদের এই জনবিচ্ছিন্নতার কথা মাথায় রেখে বক্সি বলেন, নেতাদের চালচলন, আচার-ব্যবহারে মানুষের ক্ষোভ আছে। কিন্তু কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ি বাড়ি গিয়ে গত সাড়ে সাত বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন, ৪৭টি প্রকল্পের কথা মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া। মানুষের ক্ষোভ আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে দলের প্রতীক ও মমতার উপর তাদের আস্থাকে সুদৃঢ় করতে হবে। বক্সির কথায়, এই নির্বাচনে রাম, শ্যাম, যদু, মধু কে দাঁড়িয়েছে সেটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় কথা মমতা ও দলীয় প্রতীক। এই বাংলায় রাজনৈতিক কোনও বিরোধী তৃণমূলের নেই, দলের বিরোধী মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ। সংবাদমাধ্যমের উপরেও ক্ষোভ উগরে দেন বক্সি। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সবচেয়ে ক্ষতিকারক সংবাদমাধ্যম। ভারতবর্ষের সংবাদমাধ্যমকে যে কোনও প্রলোভনের মাধ্যমে একত্রিত করে হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, মনে হচ্ছে নির্বাচনে মানুষের মতামতের কোনও দরকার নেই। এদিনের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত সাত বিধানসভার বিধায়ক, অজিত মাইতি, উত্তরা সিংহ হাজরা, মানস ভুইয়া প্রমুখ।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।