জেলা প্রথম পাতা

তৈরী তৃণমূল, বিজেপিকে কোন গুরুত্ব না দিয়েই ৫টি আসনই জেতার ব্যাপারে আশাবাদী খাদ্যমন্ত্রীর জেলার শাসক নেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি:  এবারের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় শাসক দলের সাথে টক্করে অন্যান্য বিরোধী দলগুলির মধ্যে প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। শনিবার মধ্যমগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পার্টি অফিসে আয়োজিত কোর কমিটির বিশেষ বৈঠকে এই বিষয়টি উঠে আসে বলে খবর। তবে জেলায় সিপিএম, কংগ্রেসের থেকে ধারে ভরে এগিয়ে থাকলেও শাসক দলকে যে বিশেষ বেগ দিতে পারবে না গেরুয়া শিবির তাও স্পষ্ট করা হয়েছে দলের তরফে। আর কিছুদিনের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে দেশজুড়ে সাধারণ নির্বাচন। সে কারনে অন্যান্য রাজ্যের ন্যায় পশ্চিমবঙ্গেও প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের মত করে ঘর গোছাতে শুরু করে দিয়েছে নির্বাচনে ঝাঁপাতে। এই লক্ষ্যেই এদিন মধ্যমগ্রামে জেলা পার্টি অফিসে কোর কমিটির বিশেষ বৈঠক বসে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন,  জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বিধায়ক অর্জুন সিং, নির্মল ঘোষ, পরেশ দত্ত, পার্থ ভৌমিক,  শুভ্রাংশু রায়-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মূলত এবারের নির্বাচনে জেলার নির্বাচনী কৌশল স্থির করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি গোষ্ঠী কোন্দলে বেশ বিব্রত হতে হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে। ফলে সব পক্ষকে একজায়গায় করে কিভাবে বিরোধীদের মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয় এই সভায়। পাশাপাশি জেলার পাঁচটি লোকসভা আসনে বিরোধীদের মধ্যে কোন দল কতটা শক্তিশালী তাও বিশ্লেষণ করা হয় এই বৈঠকে। এবিষয়ে উপস্থিত নেতৃবর্গ নিজ নিজ মত প্রকাশ করে। আর এই আলোচনায় মাধ্যমে উঠে আসে বিজেপির খানিকটা উত্থানের প্রসঙ্গও।  ফলে জেলার লোকসভা আসনগুলিকে দুটি জোনে ভাগ করে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করতে চাইছে তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব। পাশাপাশি নির্বাচনী মরসুমে যাতে মুকুল বাহিনি শাসক শিবিরের ঘর ভাঙাতে না পারে সে ব্যাপারেও কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে দলের তরফে। এদিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, আসন্ন নির্বাচনের জন্য দল তৈরি। জেলার পাঁচটি আসনই তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে আসবে বলে মনে করেন তিনি। একই সাথে জেলায় বিরোধীদের প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজে বিজেপিকে প্রধান প্রতিপক্ষ বলে স্বীকার করে নেন। পাশাপাশি দলের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দলের বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘পঞ্চায়েত ভোট আর লোকসভা ভোটের প্রেক্ষিত আলাদা। পঞ্চায়েতে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে অনেকে নির্দলে দাঁড়ায়। লোকসভা ভোটে সেটা হবে না। দলের সবাই একসঙ্গে লড়াই করবে।’ একই সাথে এবারের নির্বাচনে সাফল্য পেতে প্রত্যেক বুথে ২০ জনের একটি দল তৈরি করা হয়েছে। যারা বাড়ি বাড়ি মানুষের সমস্যার কথা শুনেবন এবং সেই সমস্যাগুলো  দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানান জ্যোতিপ্রিয় বাবু।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।