Uncategorized

তৃণমূলে সন্দেহ, অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছেন মুকুল

নিজস্ব প্রতিনিধি— কখনও বৈশাখী-শোভনকে বার্তা দিয়ে আবার স্বশরীরে বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচীর বাড়িতে গিয়ে জল্পনা এবং সেই সঙ্গে নতুন করে কৌতুহল সৃষ্টি করলেন মুকুল। এর আগে বিষ্ণুপুরের সৌমিত্র খাঁকে বিজেপিতে নিয়ে গিয়ে সেই সঙ্গে অনুপম হাজরাকে ঘিরে তৃণমূলের সাসপেনশনের পেছনে মুকুলই রয়েছে এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফের জল্পনা বাড়িয়ে সব্যসাচীর বাড়িতে গিয়ে মুকুল আসলে তৃণমূলের মধ্যেই সন্দেহ এবং অবিশ্বাসের বীজ জোর করে ঢুকিয়ে দিতে চাইছেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ বললেও তার আড়ালে আগামীর কোনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আছে কি না তা সময়ই বলবে। আসলে মুকুল এ রকম আরও অনেকজনের বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করে সেই নেতাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের মুখে রাজ্যের শাসকদল কি কৌশল নেয় তা বুঝে নিতে চাইছেন। মুকুল আগেই জানিয়েছিলেন, নির্বাচন ঘোষণার পর তৃণমূলের অনেকেই বিজেপিতে আসবেন। এর আগেও মুকুল তৃণমূল ভাঙানোর চেষ্টা যে করেননি এমন নয়, কিন্তু হেভিওয়েট কোনও শাসক নেতা মুকুলের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। কারণ, যিনি বিজেপিতে যাবেন তাঁর বিরুদ্ধে রাতারাতি থানায় অভিযোগ দায়ের হবে। সেকারণে বিজেপিতে এখনই কেউ না এলেও নির্বাচন ঘোষণার পর লাইন লাগবে এমনটাই দাবি করেছিলেন মুকুল। হাতে আর সময় বেশি নেই। রবিবার কিংবা সোমবার নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর মুকুলের হাতে কি তাস রয়েছে, তা নিয়ে কৌতুহল ক্রমশ বাড়ছে। এদিকে, শুধু শোভন-বৈশাখী কেন, তৃণমূলের আরও অনেক নাম রয়েছে তাঁর কাছে। শুক্রবার এমনটাই মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এমন কি স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এনডিএ-তে ঢুকতে চান বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সেকেন্ড ইন কমান্ড। মুকুল রায়ের অভিযোগ বাংলায় পুলিশ রাজের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অনেকেই।

মুকুল রায়ের দাবি, বিজেপিতে যেতে চাওয়া তৃণমূল নেতাদের কেউ বলছেন ২০১৯টা দেখে নিই। তারপরেই ঝাঁপ দেব। আবার কেউ বলছেন আরও কিছুটা অপেক্ষা করো।
মুকুল রায়ের অভিযোগ, বাংলায় পুলিশ রাজ চলছে। তাতেই ভয় পাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। নির্দিষ্ট করে মুকুল রায়ের অভিযোগ বাংলায় যাঁরাই তৃণমূল ছাড়ছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই পুলিশ মামলা করছে। সৌমিত্র খান বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ১০ তারিখ। ৯ তারিখ পর্যন্ত তিনি সাধু। আর ১০ তারিখে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আটটা মামলা দেওয়া হয়েছে। এটাই পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মুকুল বলেন, রাজ্য তৃণমূল বলে কিছু নেই। কোনও জেলা সভাপতির কোনও কথাই মানা হয় না। এসপি যা বলেন, তাই হয়। এসপি এবং এসডিও-রা  বিজেপির পথে পা বাড়িয়ে থাকা নেতাদের ডেকে বলছেন, কেন এমন করছেন। তৃণমূলটাই করুন। দাবি করেছেন মুকুল রায়। ভোটের দিন ঘোষণার পর মানুষ দলে দলে বিজেপিতে যোগ দেবেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মুকুল অঙ্ক কষেই এগোচ্ছেন। বিধানসভা ভিত্তিক কি করলে তৃণমূলকে ব্যাকফুটে ফেলা যাবে সেই অঙ্ক তিনি ছকে রেখেছেন। কিন্তু অঙ্ক দিয়ে ভোট হয় না। আরও অনেক বাস্তব কারণ রয়েছে। ভোটের দিন কত মানুষ বুথমুখী হয় শেষ পর্যন্ত তারা বিজেপি’র আস্থা রাখতে পারেন কি না সেটা সময়ই বলবে। তবে এটা বলা যেতেই পারে, সীমিত সময়ের মধ্যেই মুকুল বিজেপিতে নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছে। তবে ভাল ফল করতে না পারলে মুকুল যতই ওজনদার নেতা হোক না কেন বিজেপির অন্যান্য নেতারাও তাঁর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠবেন। মুকুল যখন শোভন কিংবা বৈশাখীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে, সেই সময় বিজেপি’র রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ বলছেন, ‘শোভনকে না নেওয়ার কথা। ভারতী ঘোষকে নিয়েও দিলীপের আপত্তি ছিল। যদিও নারী দিবসে লকেট ও ভারতীকে পাশাপাশি হাঁটতে দেখা গিয়েছে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।