কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

তৃণমূলের কী বিড়ম্বনার মুখে! বিজেপিতে যোগদানের জন্য মুকুলের ফোন পার্থ, ফিরহাদের কাছে,

নিজস্ব প্রতিনিধি : সামনে লোকসভা ভোট। আর ঠিক নির্বাচনের মুখে একে একে করে বিজেপিতে যোগদান করেছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা। ভোট যত এগোচ্ছে তত তৃণমূল পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বও। এমনকী নাম না করে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই রহস্য ফাঁস করলেন মুকুল নিজেই। স্বীকার করলেন, বহু তৃণমূল নেতাকে বিজেপিতে যোগদানের আবেদন জানিয়ে ফোন করেছেন তিনি। এমনকী ফোন করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, থেকে ফিরহাদ হাকিমকেও। 

এদিন মুরলিধর স্ট্রিটে একটি সাংবাদিক বৈঠকে এক প্রশ্নের উত্তরে মুকুলবাবু বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বহু তৃণমূল নেতাকে বিজেপিতে যোগদানের আবেদন জানিয়ে ফোন করেছি। এতে সমস্যার কী আছে? যে কেউ যে কাউকে তার রাজনৈতিক দলে যোগদানের আবেদন জানাতে পারে। আমি তো ফিরহাদ হাকিম, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও ফোন করে বিজেপিতে যোগদানের আবেদন জানিয়েছি।’

সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন একাধিক তৃণমূল নেতা। এর মধ্যে রয়েছেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। তালিকায় রয়েছে শঙ্কুদেব পান্ডার নামও। তৃণমূলের অভিযোগ, দলের মধ্যে নিজের যোগাযোগ ব্যবহার করে তৃণমূল ভাঙানোর চেষ্টা করছেন মুকুল। তবে তা মানতে নারাজ মুকুল। 

একটা সময় তিনিই ছিলেন তৃণমূলের নাম্বার টু। সংগঠন তো বটেই, অনেকে বলেন, প্রশাসনিক রদবদলও ঠিক করতেন তিনিই। দলের ভোট মেশিনারি ছিল তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। রন্ধ্রে রন্ধ্রে তৃণমূলকে চেনা সেই মুকুল রায়ই এখন বিজেপি-র নেতা। কেউ কেউ বলেন আগে যিনি ছিলেন তৃণমূলের অন্যতম মাথা, এখন তিনিই তৃণমূলের মাথার ব্যথা। তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে মুকুলবাবু এ দিন খোলাখুলিই বলেন, “ওই দলে এখন কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। পার্থ (চট্টোপাধ্যায়) বিশ্বাস করে না বক্সীকে (সুব্রত), বক্সী করে না পার্থকে।”

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, মুকুলবাবু হলেন পোড় খাওয়া নেতা। ‘শোভন, ববি, পার্থ, মুনমুন’ এ সব কথা বলে ভোটের আগে তৃণমূলকে ঘেঁটে দিতে চাইছেন তিনি। লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলে কোন কোন নেতার সঙ্গে মুকুলবাবু যোগাযোগ রাখছেন তা নিয়ে ইতিমধ্যে সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে শাসক দলে। রাজ্য রাজনীতির অনেকের মতে, বহু নেতা রয়েছেন যাঁদের মুকুলবাবুর হাত ধরেই উত্থান হয়েছে। তাঁদের অনেকের কৃতজ্ঞতা বোধ থাকতেই পারে। তা ছাড়া দলের নিচুতলা থেকে শুরু করে উপরের বহু নেতার সঙ্গে মুকুলবাবু বরাবর ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগ রাখতেন। অসুখ, বিসুখ, ভাল, মন্দ সবেরেই খোঁজ রাখতেন তিনি। এ হেন নেতা যদি বলেন, আমি অমুকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, তমুক আমাকে প্রায়ই ফোন করে, তা হলে তৃণমূল ভিতরে ভিতরে আন্দোলিত হয়ে যেতে পারে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।