Uncategorized

ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের বীরবাহাকে ঠেকাতে মমতার হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া নায়িকা বীরবাহা প্রার্থী হতে চলেছেন

নিজস্ব প্রতিনিধি— ঝাড়গ্রাম লোকসভায় নির্বাচনী লড়াই ক্রমশ বাড়ছে। উত্তাপ বারছে রাজনীতিতে। রাজনীতির ময়দানে এবার তৃণমূলের প্রার্থী বীরবাহা সোরেন টুডু। রাজনীতিতে একদম আনকোরা। অন্যজন তিনিও বীরবাহা। দু’জনের নাম এক। তবে পেশা আলাদা। একজন শিক্ষিকা। অন্যজন অভিনেত্রী। ঝাড়গ্রাম লোকসভার আসনে তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা সোরেন টুডুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে চলেছেন আর এক বীরবাহা। তিনি ঝাড়খণ্ড পার্টি(নরেন)-এর সভানেত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক চুনিবালা হাঁসদার কন্যা। ইতিমধ্যে, তাঁকে সমর্থন করার আশ্বাস দিয়েছে বাম-ডান এমনকী আদিবাসী সংগঠনের নেতারা। এমনটাই দাবি সাঁওতালি অভিনেত্রী বীরবাহা হাঁসদার।

তবে কোনও দল যদি তাঁকে সমর্থন না-করে তাহলেও নির্দল হয়ে লড়বেন বলে মনস্থির করে ফেলেছেন বীরবাহা। বীরবাহাকে সমর্থনের প্রসঙ্গে সিপিএমের ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক পুলিনবিহারী বাস্কের কৌশলী উত্তর, ‘ফোন তো অনেককে করতে পারি। তাতে কি এসে যায়।’

জঙ্গলমহলে বীরবাহার পরিচয় শুধু চুনিবালার কন্যা হিসেবে নয়। তাঁর নিজের পরিচিতি অনেক বেশি। জঙ্গলমহল ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওডিশায় সাঁওতালি সিনেমার নায়িকা হিসেবে তিনি সুপরিচিত। পেয়েছেন জাতীয় অভিনেত্রীর সম্মানও।

২০১৬-র বিধানসভা ভোটে বিনপুরে ঝাড়খণ্ড পার্টি (নরেন)র টিকিটে নির্বাচনে লড়লেও তৃণমূলের কাছে হেরে গিয়েছিলেন বীরবাহা। পরে অবশ্য শাসকদলের সঙ্গে সম্পর্ক ‘মধুর’ হয় তাঁর। গত বছর অগস্টে ঝাড়গ্রামে সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনাও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বীরবাহা বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মান নেওয়ার সময় আদিবাসী সংগঠনগুলো তা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। রাজি না-হওয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণও করা হয়েছিল আমাকে। আজ তো দেখছি, আদিবাসী সমাজের একাংশকে বিক্রি করা হচ্ছে। এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধেই আমি প্রার্থী হচ্ছি।’ ভারত জাকাত মাজি পারগনা মহলের আন্দোলন অবরোধ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে বিভিন্ন সময়ে। জঙ্গলমহলের বেশ কিছু পকেট এই সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বুঝতে পেরে মাস্টার স্ট্রোক দেয় তৃণমূল। কিন্তু তৃণমূলের এই অস্ত্রেই তৃণমূলকে বেকায়দায় ফেলতে ভারত জাকাত মাজি পরগনা মহলের একটা অংশ বীরবাহা সোরেন টুডুকে মানতে রাজি নন। বীরবাহার স্বামী রবিন টুডু এই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তাঁকেও এই সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তৃণমূলের বীরবাহাকে ঠেকাতে নায়িকা বীরবাহা শেষ পর্যন্ত কোন দলের প্রার্থী হন, নাকি নির্দল হিসেবে লড়েন, এখন সেটাই দেখার।

রবিন টুডুকে নিয়ে ক্ষোভ উগরে নিজের ফেসবুক পেজে পারগানা মহলের নেতা পালহান সোরেন লিখেছেন, ‘রবিন টুডু স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিজের স্ত্রীকে তৃণমূলের প্রার্থী করেছেন। সমাজের কাছে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।