জেলা প্রথম পাতা

ঝাড়গ্রামে এবার আর সম্ভবত প্রার্থী হচ্ছেন না উমা সোরেন

কাঁথি, তমলুক, ঘাটালে একই মুখ তৃণমূলের

দেবাশিস দাস

লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির শীর্ষ নেতাদের তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পরিচালনার জন্য যে ১২ জনের কমিটি ঘোষণা করেছিল ১২ মার্চ, তার বৈঠক হতে চলেছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে। এই বৈঠকে তৃণমূলের জেলা সভাপতিদেরও ডাকা হয়েছে। দলীয় গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের পর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে শাসক দলের । ১৩ মার্চ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হচ্ছে। ওইদিন সন্ধ্যে থেকেই মাইক প্রচার শুরু হয়ে যাবে। টালিগঞ্জ ও যাদবপুরেও ইতিমধ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ১৩ মার্চ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে যতদূর জানা গিয়েছে আগেই ৪২টি লোকসভার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছে তৃণমূল। এখন সময় শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করার অপেক্ষা। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি দলীয় ইস্তাহারও পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে। দেশের জন্য ‘দিদিকে চাই’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে শাসক দল নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে চাইছে। সেই সঙ্গে লোকসভা ভিত্তিক কে কোথায় প্রচারে যাবেন তাও দ্রুত ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। হাতে সময় বেশি নেই সে কারণে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে শাসক দলের অন্দরে। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। এবার লক্ষ্য ৪২-এ ৪২। স্বাভাবিকভাবে এই টার্গেটকে মাথায় রেখে এবার দলের অনুগত সৈনিকদের প্রার্থী তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে শাসক দল সূত্রে খবর। এবার প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রবল সম্ভাবনা মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত সাংসদ সন্ধ্যা রায়ের। একই ভাবে বাঁকুড়ার তারকা প্রার্থী মুনমুন সেনের নাম এবার প্রার্থী তালিকায় নাও থাকতে পারে। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রে শাসক দলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ডা. মানস ভুঁইয়া। ঘাটালে ফের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা দেবের। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে তমলুকে দিব্যেন্দু অধিকারী এবং কাথিতে শিশির অধিকারী পুনরায় প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। ঝাড়গ্রামের সাংসদ উমা সোরেন এবার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বিকল্প হিসাবে তাকে দলীয় কাজে বেশি করে যাতে তিনি সময় দেন সেই চেষ্টাই চলছে। পুরুলিয়া লোকসভা আসনে প্রার্থী কে হবেন তার অনেকটাই নির্ভর করছে এই জেলার পর্যবেক্ষক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। প্রার্থী তালিকায় রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য শ্যামল সাঁতরার নাম শোনা যাচ্ছে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের জন্য। বোলপুরের আসনটিতে সাংসদ ছিলেন অনুপম হাজরা, তিনি বর্তমানে দল থেকে সাসপেন্ড অবস্থায় রয়েছেন। এই কেন্দ্রের জন্য অসিত মালের নাম শোনা যাচ্ছে। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে সুগত বসুও ফের প্রার্থী হতে পারেন বলে খবর। ইতিমধ্যে এই লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মনীশ গুপ্তকে চেয়ারম্যান করে নির্বাচনী কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও যাদবপুর লোকসভা বিশেষভাবে দেখবেন। এছাড়া অরূপ বিশ্বাস আরও বেশ কয়েকটি জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। মৌসম বেনজির নুর ফের উত্তর মালদা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে পরিবর্তন বলতে এবার আর তিনি কংগ্রেসের নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথী। উত্তর কলকাতা লোকসভা আসনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন ঘটছে। কৃষ্ণনগর লোকসভায় এবার নতুন মুখ আনতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তাপস পালের।

শাসকদলের প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেকেই বিভিন্ন ভাবে তদ্বির করেছেন। তবে এক্ষেত্রে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত কোন নামে সিলমোহর দেন তা প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে যদি কেউ এগিয়ে থাকছেন তবে পরমুহুর্তে হয়তো বর্তমান পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে তিনি পিছিয়ে পড়ছেন। তবে জয়ী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এমন নেতাদেরই প্রার্থী করছে শাসকদল। তবে এক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যারা প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন তাদের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করছে। দল। ১৩ মার্চ বামেরা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে। আজ সোমবার দিল্লিতে অমিত শাহ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন বিজেপির কারা কারা প্রার্থী হবেন এ রাজ্যের জন্য তা ঠিক করতে। রবিবার সন্ধ্যায় মালদা থেকে ফিরেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। আজ থেকেই তৎপরতা শুরু হয়ে যাবে প্রদেশ কংগ্রেসের। বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এখন সময় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার। দীপা দাশমুন্সি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান কিনা সে দিকেও নজর থাকবে। সেইসঙ্গে কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় নতুন কোন চমক থাকে কিনা তা সময়ই বলবে। বামেদের থেকে রায়গঞ্জে প্রার্থী হয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম। প্রার্থী তালিকায় তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটছে এবারও। তবে তৃণমূলের ৩৪ জন সাংসদের মধ্যে সৌমিত্র খাঁ বিজেপিতে চলে গিয়েছেন। সাসপেন্ড অবস্থায় রয়েছেন অনুপম হাজরা। বাদবাকি সবার ইচ্ছে প্রার্থী হওয়ার। ফলে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন তাঁরা। কিন্তু ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে এবার পরিস্থিতি আলাদা। সে কারণে কার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে তার জন্য আর কিছুটা সময় অপেক্ষা করতেই হবে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।