জেলা প্রথম পাতা

জঙ্গলমহলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামল তৃণমূল! বীরবাহা সোরেনের প্রচারে গিয়ে বিজেপিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি: যাদের কোন সাফল্যের ইতিহাস নেই। তারা আজ এই বাংলায় নতুন করে অশান্তি লাগানোর চেষ্টা করছে।জঙ্গলহলে আগে এক রানী,টানি ছিল।আর এক গদ্দার ছিল।রানী,গদ্দার মিলে জঙ্গলমহলকে শেষ কারার চক্রান্ত করেছিল।সেটা বুঝতে মমতা বন্দোপাধ্যায় ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি হয়ে গিয়েছেন নেত্রী।গদ্দার হেঁসে হেঁসে চাটুকাবৃত্তি করছে।  নেতা তো নেই চাটুকাবৃ্তি করেছে।আমরা প্রকৃত মানুষের সাথে দল করি। আমরা প্রকৃত মানুষের পাশে থেকে যারা লড়াই করে তাদের নিয়ে। বৃহস্পতিবার ছাত্র যুব সন্মেলনের মঞ্চ থেকে এভবেই বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন পাম দিলে তো আর বেড়াল বাঘ হবে না।এখানে কাউকে কাউকে বলা হচ্ছে এটা করব,ওটা করব।আমি তো ওদের বলেছি আগে বাড়িটা সামলাও তারপর তুমি তোমার রাজ্যটা সামলাবে।যারা দেশ সামলাতে পারেনা তারা নতুন করে আবার আসছে তখন ভাবছে আমরা যখন দেশের দায়িত্ব পেয়েছি তখন রাজ্যের দায়িত্বও নেব।কে দেবে তোমাদের দায়িত্ব।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আঠারো ঘন্টা কাজ করতে পারবে।জেলায় জেলায় উন্নয়নের এক হাজারটা মিটিং করতে পারবে।এটা গ্যাস দেওয়ার কথা ছিল সেটা ফুটো হয়ে গিয়েছে।আর গ্যাস আসচ্ছে না।নিজের গ্যাসও গেছে।মানুষের কাছে গিয়ে দেওয়া মানুষের প্রতিশ্রুতি আমি চ্যালেঞ্জ করছি বিজেপিকে।আমরা ৩৪ বছর অপশাসন দেখেছি সিপিএমের।কংগ্রেস সাইন বোর্ড এখানে কেউ নেই।চারটে লোক দাপাদাপি করে বেড়াচ্ছে।আর বিজেপিকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি।গত বারের আপনাদের নির্বাচন পুস্তিকা নিয়ে আসুন।আমরাও আমাদেরটা নিয়ে আসি।আপনারা ঠিক করুন এরাজ্যে আপনাদের তো কোন লোক নেই কপ্টারে করে দু চারটা লোক আনুন,বাংলাটা শিখিয়ে দিন।হিন্দিতে বলুক।কিন্তু বলুন কি তারা করেছে। বাংলায় অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরি করেছে। এদিন  ঝাড়্গ্রাম লোকসভা আসনে তৃণমূ্‌ল প্রার্থীর সাথে দলের আগত নেতা,কর্মীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন তৃণমূলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।তিনি জানিয়েছেন  লড়াইয়ের ময়দানে লক্ষ একটাই জয়। এবারের ঝাড়গ্রাম লোকসভা আসনের নতুন মুখ শিক্ষিকা বীরবাহা সোরেন(টুডু)র রাজনৈতিক প্রচার কর্মসুচিও শুরু হয়ে গেল।আর লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীর প্রচারে যুব,ছাত্র সংগঠন বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে বলেন জানিয়ে যান মহাসচিব।তিনি নির্দেশ দিয়ে যান যুব,ছাত্র সংগঠনকে অবিলম্বে দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে বুথ ভিত্তিক এলাকার মানুষের কাছে প্রচার চালানোর জন্য।পাশাপাশি নিজেদের মতো তার একটি রিপোর্ট তৈরি করে দলকে পাঠাবে।তার সাথে দলের বিরোধীদেরও চিহ্ণিত করার কথা বলেন।এদিন জামবনি ব্লকের চিল্কিগড় অঞ্চলের টুলিবরে সম্মেলনে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও ছিলেন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।এছাড়া রজ্যের ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃত্ব এবং ঝাড়গ্রাম জেলা কোর কমিটির বিভিন্ন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন এদিন তিনি বলেন আমরা বীরবাহাকে প্রার্থী করেছি।তিনি শিক্ষিকা।গতবার ছিল ডাক্তার।আমরা সবার সঙ্গে কথা বলেছি।ভাববেন না শুধু তৃণমূলের সাথে কথা বলেছি।জঙ্গলমহলের মাটির সঙ্গে যুক্ত সবার সাথে কথা বলেছি।বীরবাহাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বলেছেন তুমি যাও ,যুদ্ধে যাও আমি তোমার সেনাপতি।আর উমাকে ও নিয়ে এসেছি।সকলের নেতৃত্বে আমরা সবাই এক।রাজনৈতিক গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে যখন নির্বাচন আসে তখন দেখে না কে সেনাপতি,কে সহ সভাপতি।কে নেতা কেউ দেখে না।তখন দেখে আমাকে জিততেই হবে।মানুষের প্রতি বিশ্বাস রেখে জিততে হবে।মানুষকে সংগঠিক করে জিতেতে হবে।ছাত্র,যুবদের বলব বুথে বুথে দেওয়াল লেখা শুরু করে দাও।প্রতিটা বুথে ভোটারদের কাছে যাও।তোমরা তোমদের মতো রিপোর্ট আমাদের দাও।আমরা দেখতে চাই কোথায় আমাদের দূর্বলতা কোথায় আমাদের সবলতা।দিদির দলে যদি দু একটা অন্য রকম ডাকাত থাকে তাহলে তো দেখতে হবে।তাদের জন্য দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করলে চলবে না।বিজেপিতে গিয়ে ডাকাত তৈরি হলে হোক।তাদের জন্য আবার জেলের ব্যবস্থা আছে।পশ্চিমবঙ্গে থাকব আর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি করব এই মানসিকতায় যারা আছে তারা মুর্খের স্বার্গে বাস করছে।মানুষ এর প্রতিবাদ করবে।প্রার্থীকে জয় যুক্ত করবেন সঙ্গ বদ্ধ হয়ে।”এদিন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সৌমেন মহাপত্র,জেলা পরিষদের সভাধিপতি মাধবী বিশ্বাস,জেলার বিভিন্ন বিধায়ক,জেলা যুব সভাপতি দেবনাথ হাঁসদা,ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি সত্যরঞ্জন বারিক,রাজ্য ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুভাশিষ চক্রবত্তী,ঝাড়গ্রাম জেলা কোর কমিটির চেয়ারম্যান সুকুমার হাঁসদা,বিদায়ী সাংসদ উমা সোরেন প্রমুখ। পাশাপাশি এদিন জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, যুব সংগঠন শক্তিশালী হলে মূল সংগঠন তত বেশি শক্তিশালী হবে। এদের আবেগ বেশি, এরা এগিয়ে যেতে জানে। এরা কখনো পিছিয়ে আসে না। তাই যুবদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।