জেলা প্রথম পাতা

চোপড়ায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, গুলিবিদ্ধ দশম শ্রেণির ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি : জমিদখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হল দশম শ্রেণির ছাত্রী। পায়ে গুলি লেগে হাসপাতালে ভর্তি দশম শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা সিং। স্থানীয় একটি জমিতে দলীয় অফিস তৈরিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। এদিন সকালে দুপক্ষের অশান্তি চরমে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত তিন-চার দিন ধরেই এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঝামেলা লেগে আছে। গ্রামের সরকারি অধিকৃত জমিতে তৃণমূলের পার্টি অফিস করা নিয়ে বিজেপি সমর্থক সত্যেন সিং ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা রবীন সিং-এর মধ্যে এই ঝামেলার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার দু’পক্ষকে থানায় ডেকে কড়া ভাবে সতর্ক করে পুলিশ। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে রাজি হয় দুই পক্ষই।

শুক্রবার সকাল থেকেই দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। অশান্তি চলাকালীন প্রিয়াঙ্কার পায়ে গুলি লাগে। স্থানীয় তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের দলীয় কার্যালয়ের পতাকা ছিঁড়ে দিয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। চলে গুলি। শুরু হয় বোমাবাজি। দু’পক্ষের গুলি বিনিময়ের মাঝে পড়ে পায়ে গুলি লাগে সত্যেনবাবুর মেয়ে প্রিয়ঙ্কার। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় দলুয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখান থেকে ইসলামপুর হাসপাতালে। প্রিয়ঙ্কার পায়ের গুলি বার করা হয়েছে। তার অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে প্রিয়ঙ্কা। ঘটনার আতঙ্ক এখনও কাটেনি তার। প্রিয়ঙ্কার কথায়, ‘‘আমি দেখি কিছু লোক গোলমাল করছে। আচমকাই একটা আওয়াজ। মনে হল পায়ে কিছু লেগেছে। ব্যথায় শুয়ে পড়ি। গোলাগুলি নিয়ে কিছু জানিনা।’’ ঘটনা প্রসঙ্গে প্রিয়ঙ্কার বাবা সত্যেনবাবুর দাবি, তৃণমূলের সমর্থকরাই গুলি ছুড়ছিল। এলাকায় তারাই অশান্তি তৈরি করে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসেও শাসক দলের বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে অশান্তির জেরে গুলিবিদ্ধ হয় এক ছাত্র। সেপ্টেম্বর মাসে দাঁড়িভিটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু দুই ছাত্রের। রাজনৈতিক অশান্তির জেরে বারবার কেন চোপড়ায় গুলিবিদ্ধ হতে হচ্ছে পড়ুয়াদের, এদিনের ঘটনা ফের একবার সেই প্রশ্নটাই তুলে দিল।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।