Uncategorized

গেরুয়া শিবিরের পথে ভাটপাড়ার দাপুটে বিধায়ক অর্জুন

নিজস্ব প্রতিনিধি— জল্পনার অবসান। অপমানিত হয়ে দল ছাড়তে চলেছেন বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের দাপুটে বিধায়ক অর্জুন সিং বলে খবর মিলছে। বিধায়কের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বৃহস্পতিবারই দিল্লিতে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেবেন শিল্পাঞ্চলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতা। যদিও তৃণমূলের অন্য অংশ বুধবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিধায়কের এই বক্তব্যকে সামনে রেখে দাবি করছে যে, দলেই থাকবেন ভাটপাড়ার বিধায়ক। তিনি খুব শীঘ্রই প্রচারে নামবেন। প্রসঙ্গত, এদিন অর্জুন সিং সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে জানান যে, রাজনীতিতে কোনও মান-সম্মান বলে কিছু হয় না। সবই সমঝোতা। তবে, বিধায়কের ঘনিষ্ঠ মহল জানায়, গেরুয়া শিবিরে যোগদানের বিষয় একপ্রকার নিশ্চিত। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার রাতেই শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন অর্জুন। তারপরই গেরুয়া শিবিরে যোগদানের বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেন। লড়াকু এই সৈনিকের অন্য দলে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে শাসকদলের। তাই দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা হলেও, সেভাবে দেওয়াল লিখনে ঝড় চোখে পড়েনি। এদিন বারাকপুরে সামান্য অংশে ও বীজপুরের একপ্রান্তে একটু-আধটু দেওয়াল লিখন চোখে পড়েছে। তবে অন্যবার প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই যে জমিয়ে দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু হয়ে যেত তা চোখে পড়েনি এদিন। প্রসঙ্গত, দলের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পরেই বারাকপুর থেকে বীজপুর নিস্তব্ধতা ঝড়ে পড়ে আদি তৃণমূল শিবিরে। দীনেশ ত্রিবেদী দু’বারের সাংসদ। এবারও প্রার্থী। তবে প্রাক্তন এই রেলমন্ত্রীকে ঘিরে বারাকপুরে তৃণমূল শিবিরে ফাটল। দল ক্ষমতায় আসার আগে যার হাত ধরে এই শিল্পাঞ্চল জুড়ে তৃণমুল প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল তাকে এবারও প্রার্থী করা হল না এমনই বার্তা দিনভর শোনা যায় আদি তৃণমূলীদের অন্দরে। তবে, চোরাস্রোত কদিন আগে থাকতেই বইছিল। এবার ঢেউয়ে ভাসতে চলেছে ঘাসফুল কর্মীরা। অবজ্ঞা, বঞ্চনার জবাব কিভাবে দেওয়া যাবে, সেই পথের দিকে তাকিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা। শিল্পাঞ্চলে দুর্দিনের লড়াকু ঘাসফুলের কর্মীদের অনেকাংশই আজ ঘরে বসে। এক শ্রেণির ঘাসফুল নেতাদের জীবনযাপনে যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটে গেছে। বুথে বসে মাথা ফাটানো, সিপিএমের অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে লুকনো কর্মীদের দেখে মুখ ফেরানো নেতার সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ঘটেছে। অবহেলিত কর্মীরাই বাতলে দিচ্ছে পঞ্চায়েত থেকে পুরসভায় কিছু পুরনো কর্মীদের ঠাঁই হয়েছে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে। স্থায়ী চাকুরি মিলেছে নেতাদের পরিজন আর সিপিএম থেকে আসা লোকেদের। বারাকপুর কেন্দ্রে বাম শিবির এখন ক্ষয়িষ্ণু। তৃণমূল শাসনকালে পুরসভা-পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করতে দেখা যায়নি কোনও বাম নেতাকে। এমনকী বন্ধ মিল খুলতে উদ্যোগ চোখে পড়েনি। কিন্তু বন্ধ শিল্প খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিদায়ী সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী। নৈহাটির গৌরীপুর অঞ্চলের শ্রমিক মহল্লার মানুষ আজও ভুলতে পারে না সাংসদের দেওয়া কথাকে। ২০০৯ সালে প্রথমবার ওই অঞ্চল দাঁড়িয়ে বন্ধ গৌরীপুর মিল খোলার চাবি যে তার কাছে, তা বলেছিলেন। কিন্তু আজও তাঁরা হতাশ। খেলা, মেলা, উৎসব ছাড়া আজ অবধি সাংসদকে দেখা যায়নি বলে শ্রমিক মহল্লার ক্ষোভ। আর শ্রমিক নেতা হয়ে তা কোনদিনও তা মেনে নিতে পারেনি অর্জুন। শ্রমিক ও দলের পুরনো কর্মীদের কথা ভেবেই দলবদলের সিদ্ধান্ত বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর। যদি এই কেন্দ্রে গেরুয়া প্রার্থী হিসেবে অর্জুন সিং শামিল হন, তাহলে ঘাসফুলের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ পড়বে তা বলাই বাহুল্য। সূত্র বলছে, নব্য তৃণমূলিদের দাপটে কোণঠাসা নেতা-কর্মীরা অর্জুন সিংয়ের হাত ধরতে যে মুখিয়ে রয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।এবারের লোকসভা নির্বাচন কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরায় হবে। এমতাবস্থায় ঘাসফুলের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী ভোট ময়দানে কতটা কাজ করবে তা বলা মুশকিল।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।