জেলা প্রথম পাতা

গুরুত্ব নয় বিজেপিকে! ঘুঁটি সাজাতে রণকৌশল তৈরী তৃণমূলের, রিপোর্ট তলব জেলা সভাপতির  

নিজস্ব প্রতিনিধি: নির্বাচনী প্রচারে অহেতুক গুরুত্ব দেওয়া যাবে না বিজেপি। শনিবার মাদপুরে পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন ব্লক নেতৃত্বকে এই বার্তাই দেওয়া হল। তৃণমূল জেলা সভাপতি অজিত মাইতি জানান, আগামী ৭-৮ তারিখের মধ্যেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাবে। তার আগে সম্ভাবত এটাই জেলা কমিটির এই শেষ বৈঠক। ৮দিনের মধ্যে বুথস্তরের কমিটি তৈরী করে জেলা নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অজিতবাবু বলেন, বিগত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফলের নিরীখে মেদিনীপুর ও ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে। এছাড়াও ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রেও শালবনী ও গড়বেতা ব্লক এবং আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তগর্ত চন্দ্রকোনা বিধানসভা এলাকাতেও তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান ব্লক নেতৃত্বের হাতে তুলে দিয়ে ব্যবধানকে আরো সুদৃঢ় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অজিতবাবুর দাবি কেশিয়ারী বিধানসভা এলাকায় তাঁরা ২৫ থেকে ৩০০০০ ভোটে এগিয়ে থাকবে। কেশিয়ারী এবং খড়গপুর শহর নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়। খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই বিধানসভায় গিয়েছে। কেশিয়ারী এবং খড়গপুর শহর নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়। খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই বিধানসভায় গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই শহরে কংগ্রেস এখন হাল ছেঁড়ে জাহাজের মতো। তৃণমূল চাইছে কংগ্রেসের ভোটে ভাগ বসিয়ে এবং নিজেদের দন্ধ মিটিয়ে ভোটবাক্স অটুট রেখে বিজেপিকে পিছনে ফেলতে। সেজন্য খড়গপুর শহরে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে একটি আলাদা কমিটি তৈরী করতে হবে। অজিতবাবুর দাবি বিজেপির ৬০ ভাগ বুথে সংগঠন নেই। তাই মোড়ে মোড়ে সভা করে তাঁরা অশান্তি তৈরী করতে চাইছে। যন্ত্রনাদায়ক অস্থিরতাও তৈরী করতে চাইছে। এই ব্যাপারে ব্লক নেতৃত্বকে সর্তক করে দেওয়া হয়েছে এবং নজর রাখতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবার ফের জেলার ৬-৭টি ব্লককে নিয়ে জেলা নেতৃত্ব বসবেন মূলত নিজেদের আভ্যন্তরীন দন্ধ মিটিয়ে ফেলার লক্ষ্যে। এছাড়াও ব্লকস্তরে,জেলাস্তরে এবং রাজ্যজুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে প্রচার পত্র তৈরী করে বাড়ি বাড়ি পৌছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এদিনের বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি কি কোন প্রভাব ফেলতে পারেন,এই প্রসঙ্গ জেলা তৃণমূল সভাপতি বলেন এতে তৃণমূলের সুবিধা হয়েছে। এ্সপি থাকাকালীন বহু লোককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ছিলেন ভারতী। মানুষ ওর ওপর বিরক্তিতেই বিজেপিকে ভোট দেবে না।এদিনের বৈঠকে বক্তব্য রাখেন মানস ভুইয়া, মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, শ্রীকান্ত মাহাতো, শিউলি সাহা, দেবাশিস চৌধুরী, প্রদ্যুৎ ঘোষ, দীনেন রায়।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।