কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করুক কমিশন! বাংলায় নজর দিতে বলে নির্বাচন কমিশনে নালিশ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের

নিজস্ব সংবাদদাতা: রবিবার বিকেলেই দেশজুড়ে লোকসবা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেইমত কমিশনের পাশাপাশি ভোটের যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সব রাজনৈতিক দলই। মঙ্গলবার এরাজ্যে ৪২ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল।তবে এবার এরাজ্যের ভোটের দিকে যে বাড়তি নজর দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব তা ফের একবার প্রমাণ হল। বুধবার সকালেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মুকুল রায়,কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা পৌছে গিয়েছিলেন দিল্লির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে।বঙ্গে সুষ্ঠু ভাবে লোকসভা ভোট করতে হলে রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা করলে চলবে না। কেন্দ্রীয়বাহিনীকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করার ব্যাপারে কমিশনকেই দায়িত্ব নিতে হবে।” জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এমনই দাবি জানালেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতারা। বুধবার নয়াদিল্লির নির্বাচন কমিশনে যান কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে বাইরে এসে সাংবাদিকদের রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “আমরা কমিশনকে জানিয়েছি, বাংলার পুলিশের উপর ভরসা করে সুষ্ঠুভাবে ভোট করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয়বাহিনীকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যেন কমিশন রাজ্য পুলিশের  উপর ভরসা না করে।”  বিজেপি মুকুল রায় বলেন, “কমিশনের কাছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সমস্ত ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এত হিংসা, এত রক্ত দেশের কোনও রাজ্যে হয় না।” 

এদিন বিজেপি নেতারা কমিশনকে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করলেই সুষ্ঠু ভোট সম্ভব। তার পাশপাশি স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা নয়, বাহিনী মোতায়ন নিয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিক নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকরা। এমনই দাবি নিয়ে বুধবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। এ দিন বিজেপি নেতারা জানান, কমিশনের কাছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সমস্ত ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এত হিংসা, এত রক্ত দেশের কোনও রাজ্যে হয় না। রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলায় কী হয়েছে গোটা দেশ দেখেছে। ১০০ জন মানুষের মৃত্যু, গণনার দিন কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার জ্বালিয়ে দেওয়া, কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশের নমুনা নয়।”যদিও বাংলার শাসক দলের নেতারা বিজেপি-র কমিশনে নালিশ জানানো নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “ভোটে জিততে গেলে সংগঠন লাগে। বিজেপি-র তো সেটাই নেই। তাই বারবার কমিশনে যাচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন উপনির্বাচনে  কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়েই তো ভোট করানো হয়েছে । তাতে ফলাফল কী হয়েছে সবাই জানে?”

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।