জেলা প্রথম পাতা

কমিশনের কর্তাদের ‘বই’ উপহার দেবেন বিজেপি নেতা! বাম জামানায় মমতার লেখা ‘বই’ এখন নতুন অস্ত্র মুকুলের

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার প্রতিটি বুথকে স্পর্শকাতর। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই আবেদন করে এসেছে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। তার পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এটা বাংলার অপমান। এর জবাব দেবে মানুষ। শুক্রবার রানি রাসমণি রোডে ধরনায় বসে গিয়েছে তৃণমূলের মহিলা সেল।মুকুল রায়ের টেবিলে রাখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই।মুরলীধর সেন লেনের বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলার ছোট ঘরই আপাতত ঠিকানা তৃণমুলের প্রাক্তন সেকেনড ইন কমান্ড মুকুল রায়ের। শুক্রবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা গণতন্ত্রের লজ্জা বইটি ইংরাজি অনুবাদ রাখা ছিল তাঁর টেবিলে। এই দৃশ্য বিস্তর চমকে ছিলেন তাঁর ঘরে আগতরা। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছিল লোকসভা নির্বাচনের আগে তবে কি মুখ্যমন্ত্রীর লেখা বই পড়বেন মুকুল। যার হাত ধরে রাজনীতি শুরু লোকসভা নির্বাচনের আগে তবে কি বিরোধী নেতা মুকুল রায়ের প্রয়োজন পড়ল তাঁর অভিজ্ঞতাকেই। কিন্তু সেইসব জল্পনায় জল ঢেলে এইদিন মুকুল রায় জানান, শনিবার রাজ্যে আগত উপনির্বাচন কমিশনারকে বইটি দেবেন। এর পিছনের কারণ হিসাবে তিনি জানান,২০০১ সালে রাজ্যে গণতান্ত্রিক অবস্থার হতশ্রী দশার কথা উল্লেখ করে এই বইটি লিখেছিলেন বতর্মান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বর্তমানে তিনি নিজেই ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের গণতন্ত্রের অবস্থা নিতান্তই বিপন্ন বলে মুকুলরে দাবি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর লেখা বইয়ের তথ্য এবং বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্যে উপনির্বাচন কমিশনারকে এই বই উপহার স্বরূপ দেবেন বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। উল্লেখযোগ্যভাবে ২০০১ সালে বামফন্টর সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ততকালীন ভোট ,রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বইটি লিখেছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ২০০৬ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। এই বইকে কার্যত মমতা বিরুদ্ধে হাতিয়ার করতে চাইছেন মুকুল রায়। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

 বিজেপির বক্তব্য, পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে কী হয়েছে, সেটা বাচ্চা ছেলেও জানে। সিপিএমের জমানায় তো রাজ্যে প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইতেন মমতা, এখন তাহলে আপত্তি কেন? তবে অনেকেই মনে করছেন, মমতার চিঠিপত্রও কমিশনের হাতে তুলে দেবেন মুকুল রায়। এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল নিয়েছেন বিজেপি নেতা। প্রথমত, মমতার পুরনো চিঠিপত্র প্রকাশ করে তৃণমূল যে বাংলাকে অপমানের অভিযোগ তুলেছে, তা খণ্ডন করা। আর দ্বিতীয়ত, বাংলার ভোটের ইতিহাস কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি। এতে চাপে পড়বে তৃণমূল। 

 

 

 

 

 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।