কলকাতা প্রথম পাতা

আসন্ন নির্বাচনে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য রুখতে উদ্যোগী বিধাননগর পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি— আগামী ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে সাধারণ নির্বাচন। ভোট শান্তিপূর্ণ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় এবার সাত দফায় নির্বাচন হবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। একই সঙ্গে প্রতি বুথে দু’জন করে আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানও মোতায়েন থাকবে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের এই নিরাপত্তার আশ্বাস যে মোটেই ফাঁকা নয়, তা ইতিমধ্যেই লক্ষ করা গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন উপদ্রুত এলাকায় শুরু হয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি। সাধারণ ভোটারদের ভীতি দূর করতেই কমিশনের এই প্রয়াস। সেই একই তৎপরতা লক্ষ্য করা গেল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে। কমিশনারেটের এলাকাধীন বিভিন্ন অঞ্চলে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ভৌগোলিক কারণে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের আওতাধীন এলাকাগুলি রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া নিউটাউন উপনগরী গড়ে ওঠার পর এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত্বও বড়েছে বহুগুণে। ফলে এলাকাকে নিজেদের কব্জায় রাখতে সর্বদাই সচেষ্ট দলগুলি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানে হানাহানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। যার অন্যতম নজির গত পুর নির্বাচনে। সেবারের পুর নির্বাচনে প্রায় ১৩ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হন। ফলে এবারের লোকসভা ভোট আদৌ কতটা শান্তিপূর্ণ হবে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান এলাকাবাসী। সুতরাং, একদিকে নিজেদের বদনাম ঘোচাতে ও অন্যদিকে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে বিশেষ তৎপরতা দেখা গেল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে। এবার বহিরাগতদের আনাগোনা রুখতে আদাজল খেয়ে ময়দানে নামল কমিশনারেটের কর্তাব্যক্তিরা। গত কয়েকদিন যাবৎ লাগাতার তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। নিউটাউন, রাজারহাট, হাতিয়াড়া, বাগুইআঁটি, কেষ্টপুর, এয়ারপোর্ট সহ বিভিন্ন এলাকার হোটেলগুলিতে তল্লাশি আরম্ভ করেছে প্রশাসন। হোটেলগুলির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কিনা বা কতকগুলি ঘর আছে, সিসিটিভি ক্যামরা রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তা ছাড়া হোটেলগুলিতে কারা কী কারণে ঘর বুকিং করছে, তাদের পরিচয় কী, কী পদ্ধতিতে বুকিং নিচ্ছে সেসবের উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলেই হোটেল কর্তৃপক্ষকে থানায় খবর দিতে বলা হয়েছে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।