জেলা প্রথম পাতা

অর্জুন সিংকে নিয়ে জল্পনা শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি— তৃণমূলে ভাঙন ধরাতে মরিয়া বিজেপি। অনেক কথা হয়েছে। এবার কাজ। শেষ পর্যন্ত মুকুল রায় আদৌ কতটা সফল হতে পারবেন তৃণমূল ভাঙানোয়, তা সময়ই বলবে। মুকুল দাবি করেছিলেন, নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলে পুলিশ-প্রশাসন চলে যাবে কমিশনের অধীনে। তখন মিথ্যে মামলা দেওয়া যাবে না। ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ভোটের দিনক্ষণ। এবার দেখা যাক কতটা সফল হন মুকুল।

এদিকে, ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃতীয়বারের জন্য শাসকদলের প্রার্থী হতে চলেছেন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী। এই খবরে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ ব্যারাকপুরের আকাশে। কারণ খবর পাওয়া যাচ্ছে, দীনেশ ত্রিবেদী ফের প্রার্থী হলে উত্তর ২৪ পরগণা ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের অবস্থান কি হবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অর্জুন মনে করেন, বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জন্য অন্যতম দাবিদার তিনিই। দীনেশ ত্রিবেদী বহিরাগত। বারাকপুরের সাংসদ হলেও তিনি স্থানীয় লোক নন, এমনকী বাংলারও লোক নন।

বিজেপি’র সঙ্গে অর্জুনের ঝুঁকে থাকার খবর পাওয়ার পর থেকেই শাসক দলের উপরের সারির অনেক নেতা অর্জুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে খবর। অর্জুনকে প্রথমে বলা হয়েছিল, লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে যদি তাঁর এতো আগ্রহ থাকে, তা হলে বিহারের কোনও আসন থেকে তাঁকে টিকিট দিতে পারে দল। অর্জুন হলেন বিহারের পর্যবেক্ষক। স্বাভাবিক ভাবেই এ প্রস্তাবে রাজি হননি অর্জুন সিংহ। পরে তাঁকে আসানসোলে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারেও প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সম্মতি দেননি ভাটপাড়ার বিধায়ক।

তবে তার আগে অর্জুনকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ধরে রাখার জন্য এখনও চেষ্টা চালাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, রবিবারও কালীঘাটে গিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। অর্জুনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হয়েছে, বারাকপুরে যে দীনেশ ত্রিবেদীকেই পুনরায় প্রার্থী করা হবে সে ব্যাপারে সপ্তাহ খানেক আগে ভাটপাড়ার বিধায়ককে ফোন করে জানান নেত্রী। সেই সঙ্গে নাকি এও বলেন, অন্তর্ঘাত যেন না হয় সেখানে। জবাবে অর্জুন নাকি নেত্রীকে জানিয়ে দেন, বিরোধিতা করতে হলে দলের বাইরে গিয়ে তা সরাসরিই করবেন। দলের মধ্যে থেকে অন্তর্ঘাত করবেন না।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৯৯৯ সালে ও ২০০৪ সালে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে সিপিএমের তড়িৎবরণ তোপদারের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন অর্জুন। ২০০৪ সালে প্রায় পৌনে দু লক্ষ ভোটের ব্যবধানে তিনি হেরেছিলেন ঠিকই। কিন্তু ৯৯ সালে তৃণমূল-বিজেপি জোটের প্রার্থী হয়ে সিপিএমের তৎকালীন ওই প্রভাবশালী নেতাকে যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছিলেনব অর্জুন। সে বার হেরেছিলেন মাত্র চল্লিশ হাজার ভোটে। তার পর থেকে গত বিশ বছরে বারাকপুর শিল্পাঞ্চল তথা উত্তর চব্বিশ পরগনার রাজনীতিতে অর্জুনের প্রভাব ও ক্ষমতা দুই বেড়েছে। অর্জুনের শ্যালক সুনীল সিংহও নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়ক ও গাড়ুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।